মোদী-ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, ট্রাম্পের শুল্ক নীতিকে কেন বড় ভুল বললেন জন বোল্টন? – এবেলা

মোদী-ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, ট্রাম্পের শুল্ক নীতিকে কেন বড় ভুল বললেন জন বোল্টন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ফ্রান্সে আয়োজিত জি৭ সম্মেলনের মঞ্চে দীর্ঘ দেড় বছর পর মুখোমুখি বৈঠকে মিলিত হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই সাক্ষাৎকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। তবে এই বৈঠকের আবহেই ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতির তীব্র সমালোচনা করে একে এক বিশ্বব্যাপী ‘বড় ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

শুল্ক বিতর্ক ও কৌশলগত ঝুঁকি

সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে জন বোল্টন জানান, ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতি ভারতের ওপর অন্যায়ভাবে চাপানো হয়েছে। অতীতে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেও পরবর্তীকালে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির মাধ্যমে তা কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়। বোল্টনের মতে, বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত এই টানাপোড়েনের কারণে দুই দেশই আসল কৌশলগত চ্যালেঞ্জ থেকে নজর হারিয়ে ফেলার ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুই নেতার ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের ভিত্তিতে এই বাণিজ্য বিবাদের দ্রুত অবসান ঘটবে।

প্রধান লক্ষ্য হোক চিন

বাণিজ্য বিতর্ক কাটিয়ে উঠে ভারত ও আমেরিকার উচিত চিনের তৈরি করা বৃহত্তর কৌশলগত চ্যালেঞ্জের দিকে মনোযোগ দেওয়া। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষাকে একুশ শতকের অন্যতম প্রধান ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে বোল্টন জানান, তাইওয়ান প্রণালী, দক্ষিণ চীন সাগর এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (এলএসি) চিনের আগ্রাসী মনোভাব দিন দিন বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। মার্কিন-চিন “জি২” কাঠামোর ধারণাকে ভারতের জন্য বিপজ্জনক বলে সতর্ক করে তিনি জানান, এমন ভাবনায় ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ শরিকরা একপাশে সরে যেতে পারে।

কোয়াড জোটকে আরও সক্রিয় করার বার্তা

এই অঞ্চলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত ‘কোয়াড’ গোষ্ঠীকে শুধুমাত্র কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়েছেন বোল্টন। তাঁর মতে, এশিয়ায় ন্যাটোর মতো সামরিক জোট গঠন সম্ভব না হলেও কোয়াড সদস্যদের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, সামরিক সমন্বয় এবং বৃহত্তর নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে এই নিরাপত্তা বলয়কে মজবুত করতে দক্ষিণ কোরিয়া বা সিঙ্গাপুরের মতো আঞ্চলিক অংশীদারদেরও কোয়াডের কিছু কার্যকলাপে যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রাক্তন এই নিরাপত্তা উপদেষ্টা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *