যুদ্ধবিরতি ভাঙলে আকাশজুড়ে জ্বলবে আগুনের পাহাড়, ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে তীব্র উত্তেজনার মাঝে বিতর্কিত ‘স্ট্রেইট অব হোরমুজ’ এলাকায় সামরিক সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, এতকিছুর পরেও দুই দেশের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে এই সমঝোতা লঙ্ঘন করা হলে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে বলে তিনি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ওয়াশিংটনের লিঙ্কন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলের কাছে সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছে কি না তা জানতে কাউকে জিজ্ঞাসা করতে হবে না, শুধু ইরান থেকে আকাশছোঁয়া আগুনের পাহাড় দেখলেই তা বোঝা যাবে।”
মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা ও পাল্টা আঘাত
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ওমান উপসাগরের দিকে যাওয়ার পথে ‘স্ট্রেইট অব হোরমুজ’-এ মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি যুদ্ধজাহাজ— ইউএসএস ট্রাক্সটন, ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা এবং ইউএসএস মেসন-কে লক্ষ্য করে ইরানপন্থি বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকা দিয়ে হামলা চালায়। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে সেই হামলা প্রতিহত করেছে এবং জাহাজের কোনো ক্ষতি হয়নি। এর জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানি সামরিক ঘাঁটিগুলোতে নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ জানিয়েছেন, মার্কিন পাল্টাহামলায় ইরানি হামলাকারীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কিছু ছোট নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে।
সমঝোতার ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই পুরো ঘটনাকে ইরানের পক্ষ থেকে একটি উস্কানি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, ইরান আমেরিকার সাথে ‘খেলা’ করার চেষ্টা করেছিল, যার যোগ্য জবাব মার্কিন সেনারা দিয়েছে। ইরানের নেতৃত্বকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ইরানের সাথে নতুন কোনো চুক্তির সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “যেকোনো দিন একটি চুক্তি হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে।” বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে এমন অস্থিরতা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
