রাতের আকাশে বিরল মহাজাগতিক বিস্ময়, ৩১ মে দেখা মিলবে বছরের সবচেয়ে ছোট ‘ব্লু মাইক্রো মুনের’! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মহাকাশপ্রেমীদের জন্য চলতি সপ্তাহের শেষেই অপেক্ষা করছে এক অনন্য ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। আগামী ৩১ মে রাতের আকাশে দেখা যাবে বছরের সবচেয়ে ছোট পূর্ণিমার চাঁদ, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘ব্লু মাইক্রো মুন’ নামে পরিচিত। একই সাথে দুটি বিরল ঘটনার মেলবন্ধন ঘটায় এই চাঁদটি বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞান ও আকাশপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহলের সৃষ্টি করেছে।
বিরল এই মহাজাগতিক দৃশ্যের নেপথ্যে
জ্যোতির্বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, ক্যালেন্ডারের একই মাসের মধ্যে যখন দ্বিতীয়বার পূর্ণিমা হয়, তখন তাকে ‘ব্লু মুন’ বলা হয়। অন্যদিকে, চাঁদ যখন তার নিজস্ব উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী বিন্দুতে, অর্থাৎ অপভূ বা ‘অ্যাপোজি’ অবস্থানে পৌঁছায়, তখনকার পূর্ণিমাকে বলা হয় ‘মাইক্রো মুন’। এই মে মাসে একই সাথে দুটি ঘটনা ঘটায় চলতি সপ্তাহের শেষ পূর্ণিমাটি একই সাথে ব্লু মুন এবং মাইক্রো মুনের রূপ ধারণ করবে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আগামী ৩১ মে আন্তর্জাতিক সময় দুপুর ২টো ৪৫ মিনিটে এই পূর্ণিমা তার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাবে। সেই সময় পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব হবে প্রায় ২,৫২,৩৬০ মাইল। ফলে সাধারণ পূর্ণিমার চাঁদের তুলনায় এটিকে ব্যাসের দিক থেকে প্রায় ৬ শতাংশ ছোট এবং ১০ শতাংশ কম উজ্জ্বল দেখাবে। এমনকি সাধারণ কোনো সুপারমুনের তুলনায় এই চাঁদ প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত ছোট হতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করেছেন যে, নাম ‘ব্লু মুন’ হলেও চাঁদটি নীল রঙের হবে না, বরং দিগন্তরেখায় অবস্থানের কারণে এটি সাধারণ ফ্যাকাশে সাদা বা সোনালি-কমলা রঙেরই দেখা যাবে।
খালি চোখেই উপভোগ করা যাবে এই দৃশ্য
এই বিরল দৃশ্য উপভোগ করার জন্য কোনো বিশেষ টেলিস্কোপের প্রয়োজন হবে না, খালি চোখেই এই চাঁদ স্পষ্ট দেখা যাবে। তবে চন্দ্রপৃষ্ঠের খুঁটিনাটি ও গর্তগুলো স্পষ্টভাবে দেখতে বাইনোকুলার ব্যবহার করা যেতে পারে। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী চন্দ্রোদয়ের ঠিক পরেই অথবা গভীর রাতের দিকে এই চাঁদ সবচেয়ে আকর্ষণীয় রূপ নিয়ে আকাশে ভাসবে। বিশেষ করে দক্ষিণ গোলার্ধ এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আকাশ থেকে চাঁদটিকে বৃশ্চিক রাশিচক্রের উজ্জ্বল লাল নক্ষত্র ‘অ্যান্টারেস’-এর একদম সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে দেখা যাবে, যা এই দৃশ্যকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলবে।
