লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জায়গায় অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, কবে থেকে মিলবে ৩০০০ টাকা?

বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথেই রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে এখন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। নির্বাচনের আগে বিজেপির অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল, ক্ষমতায় এলে মহিলাদের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধি করে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালু করা হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঘোষণা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের মহিলারা প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে ভাতা পাবেন।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও আবেদনের প্রক্রিয়া
বিজেপি সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেনি। আগামী ৯ মে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সরকার গঠনের পরেই মন্ত্রিসভার প্রথম দিকের বৈঠকগুলোতে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। মে মাস থেকেই এই প্রকল্পের ফর্ম বিলি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, আবেদন প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশিকা সরকার গঠনের পরেই জানানো হবে। ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি ক্যাম্প বা নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে এই আবেদন গ্রহণ করা হবে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসায় বিদায়ী তৃণমূল সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সংশয় তৈরি হয়েছে। ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে সাধারণ ও সংরক্ষিত শ্রেণির মহিলারা বর্তমানে যথাক্রমে ১০০০ ও ১২০০ টাকা (যা সম্প্রতি বৃদ্ধির ঘোষণা হয়েছিল) পাচ্ছিলেন। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু হলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পটি এর সাথে একীভূত হতে পারে অথবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে নতুন নাম ও কাঠামোয় কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি ৩০০০ টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত গ্রামীণ ও শহরতলীর সাধারণ মহিলাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও আত্মনির্ভরতা আরও বৃদ্ধি করবে। তবে বিপুল পরিমাণ এই ভাতার অর্থ বরাদ্দ করা রাজ্য কোষাগারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বর্তমানে মহিলারা চলতি মাসের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও আশা করা হচ্ছে প্রশাসনিক পালাবদলের এই সন্ধিক্ষণেও পুরনো প্রকল্পের সুবিধা থেকে কেউ বঞ্চিত হবেন না।
