লুকানোর কিছু নেই, সিআইডিকে আসার আগে যোগাযোগের বার্তা দিলেন অভিষেক – এবেলা

লুকানোর কিছু নেই, সিআইডিকে আসার আগে যোগাযোগের বার্তা দিলেন অভিষেক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিধানসভা ভোটের প্রচার চলাকালীন ‘ডিজে বাজানো’ সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে হাজির হয়েছিল রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (CID)। শুক্রবার বিকেলের এই আকস্মিক অভিযান এবং নোটিস বিতর্ক নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তদন্ত এড়ানোর মানসিকতা তাঁর নেই উল্লেখ করে তিনি সাফ জানিয়েছেন, তাঁর লুকোনোর কিছু নেই, তবে গোয়েন্দা আধিকারিকরা যেন পরবর্তীকালে আসার আগে যোগাযোগ করে আসেন।

তদন্তকারী সংস্থার এই তৎপরতার নেপথ্যে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের সময় অভিষেকের করা একটি মন্তব্য। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘৪ তারিখের পরে ডিজে বাজানো হবে… মমতা যতই উদার হোক, ৪ তারিখ জবাব হবে।’ বিরোধীদের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি প্রচ্ছন্ন হুমকি হিসেবে দাবি করে বাগুইআটি এবং সল্টলেক সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই নোটিস দিতে সিআইডি দল তাঁর বাড়িতে পৌঁছায়। তবে ঘটনার সময় তিনি দলনেত্রীর বাসভবনে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে থাকায় তাঁর অফিসের কর্মীরা নোটিস নিতে অস্বীকার করেন, যা সাময়িক জটিলতার সৃষ্টি করে।

তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস ও রাজনৈতিক সংঘাত

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে তিনি কোনোদিন কোনো তদন্ত এড়িয়ে যাননি এবং সবসময়ই তদন্তকারী সংস্থাকে সহযোগিতা করেছেন। এর আগের দিনই বিধানসভার সই জাল-কাণ্ডে ভবানী ভবনে গিয়ে সাড়ে ৫ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার মুখোমুখি হওয়ার প্রসঙ্গটি তিনি উল্লেখ করেন। দিল্লি বা কলকাতার নিজাম প্যালেস, যেখানেই তাঁকে ডাকা হয়েছে, তিনি উপস্থিত হয়েছেন বলে দাবি করেন।

একই সঙ্গে রাজ্যে চলমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি চলাকালীন করা মন্তব্যের জন্য যদি তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়, তবে তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্তব্যের জন্য কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। ২০১১ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে ২০২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে তিনি প্রতিপক্ষকে এক চুল জমিও না ছাড়ার হুঁশিয়ারি দেন।

অভিযানের কারণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার মূল কারণ নির্বাচনের উত্তপ্ত আবহে রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আইনি টানাপোড়েন। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকলেও, পরবর্তীতে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি-র তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই ঘটনার প্রভাব রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ সুদূরপ্রসারী হতে পারে। একদিকে বিরোধী শিবির এটিকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনের চেষ্টা হিসেবে দেখছে। ফলে, সিআইডি-র এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যকার রাজনৈতিক সংঘাত এবং আইনি লড়াই আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র রূপ নিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *