‘লোকে বলত আর দল পেলি না!’ শমীকের লড়াই জানলে চোখে জল আসবে

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় মুহূর্ত তৈরি করে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করল ভারতীয় জনতা পার্টি। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের কারিগর হিসেবে রাজনৈতিক মহলে যাঁর নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক লড়াই এবং জনভিত্তিহীন এক দল থেকে শাসক দল হিসেবে বিজেপিকে প্রতিষ্ঠিত করার পিছনে শমীকের অবদান আজ অনস্বীকার্য।
শিকড় থেকে শিখরে ওঠার পথ
১৯৭১ সালে আরএসএস-এর মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে আশির দশকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। সেই সময়ে বাংলায় বিজেপির অস্তিত্ব ছিল নগণ্য। পাড়া-প্রতিবেশী থেকে বন্ধু-বান্ধব, সকলেই বিদ্রূপ করে বলতেন, ‘আর কোনো দল পেলি না!’ সেই প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে দলকে টেনে তোলা এবং যুব মোর্চা থেকে শুরু করে রাজ্য সম্পাদক ও প্রধান মুখপাত্র হিসেবে নিজেকে দলের অপরিহার্য অংশ করে তুলেছিলেন তিনি। পরাজয়ের গ্লানি সত্ত্বেও মাঠ ছাড়েননি, বরং সাংগঠনিক দক্ষতাকে তিলে তিলে সমৃদ্ধ করেছেন।
সাফল্যের নেপথ্যে সুনিপুণ রণকৌশল
২০২৫ সালে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র এক বছরের মাথায় দলকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন শমীক। মূলত বুথ স্তরের সংগঠন শক্তিশালী করা এবং দলের ভেতরের ‘আদি ও নব্য’ দ্বন্দ্ব মিটিয়ে সমন্বয় গড়ে তোলাই ছিল তাঁর বড় সাফল্য। একদিকে অভিজ্ঞ নেতাদের পরামর্শ এবং অন্যদিকে নতুন নেতৃত্বের তেজ—এই দুইয়ের মিশেলে তিনি একটি শক্তিশালী নির্বাচনী মেশিনারি তৈরি করতে সক্ষম হন। তাঁর শান্ত ও পরিমার্জিত ভাষণ এবং ঠান্ডা মাথার কৌশল বাংলায় বিরোধী ভোটকে একত্রিত করতে এবং হিন্দু ভোটারদের সমর্থন আদায়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
এই জয় কেবল একটি সরকার পরিবর্তন নয়, বরং বাংলায় বিজেপির স্থায়ী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের প্রতিফলন। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক বাম্পার ও তৃণমূল জমানার পর শমীকের হাত ধরে বাংলায় শুরু হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়। আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করা থেকে শুরু করে বিধানসভার লড়াই, শমীক ভট্টাচার্যের এই যাত্রা আগামী দিনে বাংলার রাজনীতির অন্যতম গবেষণার বিষয় হয়ে থাকবে।
এক ঝলকে
- ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসন জিতে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করছে বিজেপি।
- সাফল্যের কারিগর হিসেবে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সাংগঠনিক দক্ষতা বিশেষ সমাদৃত।
- ১৯৭১ সালে আরএসএস ও আশির দশকে বিজেপিতে যোগ দিয়ে দীর্ঘ কয়েক দশকের কঠিন লড়াই চালিয়েছেন তিনি।
- আদি ও নব্য বিজেপির মধ্যে সমন্বয় এবং বুথ স্তরের সংগঠন মজবুত করাই ছিল তাঁর জয়ের মূল চাবিকাঠি।
