শান্তিনিকেতনে কালো টাকার খেলা, শান্তনু ও জয় কামদারের কোটি টাকার বহুতলে এবার ইডির হানা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে এবার থাবা বসিয়েছে রিয়েল এস্টেটের আড়ালে কোটি কোটি টাকার কালো সাম্রাজ্য। কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং প্রোমোটার জয় এস কামদারের যৌথ মালিকানাধীন বিপুল বেনামী সম্পত্তির খোঁজে কোমর বেঁধে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বোলপুর ও শান্তিনিকেতন জুড়ে সরকারি জমি দখল এবং কম দামে জমি কিনে কোটি কোটি টাকার বিলাসবহুল আবাসন গড়ে তোলার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের হাতে।
তদন্তের কেন্দ্রে প্রান্তিকের বিলাসবহুল আবাসন
ইডির নজরে রয়েছে শান্তিনিকেতনের তালতোড় মৌজার প্রান্তিক সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা একটি বিশাল বহুতল আবাসন প্রকল্প। প্রায় দু’বিঘারও বেশি জমির ওপর নির্মিত এই প্রকল্পে একাধিক টু-বিএইচকে এবং থ্রি-বিএইচকে ফ্ল্যাট রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল নাগাদ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এই ঝাঁ-চকচকে আবাসনটি তৈরি করা হয়, যার বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। একসময়ের শান্ত ও প্রায় ফাঁকা এই এলাকায় হঠাৎ করেই প্রভাবশালী মহলের মদতে বিলাসবহুল গাড়ির আনাগোনা ও বহিরাগতদের যাতায়াত বৃদ্ধি পায়। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্প সংক্রান্ত একাধিক জমির দলিল, নথি এবং সম্পত্তি কেনাবেচার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইডি আধিকারিকদের হাতে এসেছে।
দুর্নীতির উৎস ও সম্ভাব্য প্রভাব
তদন্তকারীদের দাবি, একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে সামনে রেখে এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, শুধু বেসরকারি জমিই নয়, আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার জমি এবং সরকারি সম্পত্তিও বেআইনিভাবে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। কম দামে বা জোরপূর্বক জমি দখল করে তা বহুগুণ বেশি দামে ফ্ল্যাট হিসেবে বিক্রি করা হতো। এই দুর্নীতির নেপথ্যে প্রশাসনের কোন স্তরের আধিকারিকদের মদত ছিল এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসার আড়ালে কীভাবে এই বিপুল অর্থের লেনদেন চলল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এই ঘটনার ফলে শান্তিনিকেতনের মতো হেরিটেজ এলাকায় রিয়েল এস্টেট ব্যবসার আড়ালে চলা বেআইনি আর্থিক চক্রের বড়সড় পর্দাফাঁস হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বোলপুরের ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক সুজিত কুমার পাঁজা জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তকারী সংস্থাকে সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা করা হবে। বেনামী সম্পত্তি এবং এই বিপুল অর্থের মূল উৎস কী, এখন সেটাই ইডির তদন্তের প্রধান লক্ষ্য।
