শালিকে নিয়ে পালানোর পথে শ্বশুরবাড়ির লোকেদের পিষে দিল জামাই!- এবেলা

শালিকে নিয়ে পালানোর পথে শ্বশুরবাড়ির লোকেদের পিষে দিল জামাই!- এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুর জেলায় এক রোমহর্ষক ও নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিজের নাবালিকা শালিকাকে গাড়ি নিয়ে ভাগিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দেওয়ায় শ্বশুরবাড়ির লোকেদের ওপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে দিল ঘাতক জামাই। এই মর্মান্তিক ঘটনায় জামাইয়ের নিজের শ্যালকসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪ জন গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পারিবারিক বিবাদের জেরে ঘটা এই পাশবিক ঘটনাটি এখন গোটা জেলার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পারিবারিক বিবাদ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দীপক সোনি এক সপ্তাহ আগে তার এক নাবালিকা খুড়তুতো শালিকাকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। এই ঘটনার নেপথ্যে ছিল এক অদ্ভুত পরিকল্পনা; দীপক তার ওই শ্যালিকার বিয়ে দিতে চেয়েছিল নিজেরই এক আত্মীয়ের সঙ্গে। এই নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিবাদ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে গত রবিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় পুলিশ চৌকিতে একটি সালিশি বৈঠক বা পঞ্চায়েত বসে। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনার পর সেখানে কোনো সমাধানসূত্র মেলেনি।

রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড

পুলিশ চৌকিতে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর দীপক ওই শালিকাকে নিয়ে গাড়িতে করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাকে ধাওয়া করে কোরওয়া এলাকার কাছে গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সেই সময় পালানোর নেশায় উন্মত্ত দীপক ব্রেক না কষে সজোরে গাড়িটি শ্বশুরবাড়ির লোকেদের ওপর তুলে দেয়। দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান অন্নু সোনি (৩৫), অবধ বিহারী সোনি (২৩) এবং সত্যবান সোনি (৩০)। সত্যবান অভিযুক্ত দীপকের আপন শ্যালক ছিলেন।

আহতদের অবস্থা ও পুলিশি তৎপরতা

গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত ৪ জনকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে মমতা দেবী নামক এক মহিলার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে ফতেহপুর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ সুপার অভিমন্যু মাঙ্গলিক বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। ঘাতক জামাইয়ের বিরুদ্ধে গাড়ি চালিয়ে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন মৃতের স্বজনরা।

তদন্ত ও প্রশাসনের ভূমিকা

এই নৃশংস ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন যে, অভিযুক্তকে ধরতে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে ৩টি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে একে পারিবারিক বিবাদের জেরে ঘটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবেই দেখছে পুলিশ। তবে জামাই দীপকের এই হঠকারী সিদ্ধান্তে দুটি পরিবারই এখন শোকের ছায়ায় ডুবে গেছে।

এক ঝলকে

  • নাবালিকা শালিকাকে নিয়ে পালানোর সময় শ্বশুরবাড়ির লোকেদের ওপর গাড়ি চালিয়ে দিল জামাই।
  • মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শ্যালকসহ ৩ জনের মৃত্যু এবং ৪ জন গুরুতর আহত।
  • পুলিশ চৌকিতে সালিশি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরেই এই কাণ্ড ঘটায় অভিযুক্ত দীপক সোনি।
  • এলাকাটি এখন পুলিশি নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা; অভিযুক্তকে ধরতে ৩টি তদন্তকারী দল গঠিত।
  • পারিবারিক বিবাদের জেরেই এমন নৃশংস পদক্ষেপ বলে প্রাথমিক ধারণা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *