শিরদাঁড়া সোজা রেখে কাজ করুন, আমলাতন্ত্রে পেশাদারিত্ব ফেরাতে কড়া বার্তা মুখ্যসচিবের

নবান্নের প্রশাসনিক অলিন্দে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কর্মসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে কড়া অবস্থান নিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। মঙ্গলবার দায়িত্ব গ্রহণের পর সব দফতরের সচিবদের নিয়ে আয়োজিত প্রথম বৈঠকেই আমলাদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। নব্বই দশকের এই আইএএস আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি কাজে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক আনুগত্যের চেয়ে নিয়মনীতি পালনই হবে একমাত্র অগ্রাধিকার।
শিরদাঁড়া সোজা রাখার দাওয়াই
বৈঠকে আইএএস অফিসারদের মনোবল চাঙ্গা করতে মুখ্যসচিব বলেন, “কাজ করলে শিরদাঁড়া বাঁকাতে হয় না।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, আমলারা রাষ্ট্রের স্থায়ী স্তম্ভ এবং তাঁদের মূল দায়িত্ব প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা। দীর্ঘ সময় ধরে নবান্নের কাজে যে শিথিলতা বা রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ ছিল, তা ঝেড়ে ফেলে নির্ভয়ে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মূলত প্রশাসনের শীর্ষস্তরে কাজের গতি ফেরানো এবং আমলাদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনাই ছিল তাঁর এই বার্তার প্রধান উদ্দেশ্য।
কেন্দ্রীয় প্রকল্প ও সুশাসনের রোডম্যাপ
মুখ্যসচিবের এই নির্দেশের সমান্তরালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও জেলা প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করার কড়া বার্তা দিয়েছেন। গরু, কয়লা ও বালি পাচার রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের পাশাপাশি সিন্ডিকেট রাজ ও তোলাবাজি বন্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্যে থমকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব। বিজেপির ‘সংকল্প পত্রে’র ঘোষণাগুলি বাস্তবায়নে প্রতিটি দফতরকে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, জনকল্যাণমুখী কাজে কোনও বিলম্ব বরদাস্ত করা হবে না।
প্রশাসনিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের সময় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মনোজ আগরওয়ালকে মুখ্যসচিবের পদে আনা এবং অভিজ্ঞ আমলা সুব্রত গুপ্তকে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা প্রশাসনের বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন সরকার আমলাতন্ত্রকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে তুলে এনে একটি স্বচ্ছ ও শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো গড়তে চাইছে। মূলত বিগত জমানার ত্রুটিগুলি সংশোধন করে আইনি পথে শাসনব্যবস্থা চালানোই এখন নবান্নের প্রধান লক্ষ্য।
