শিল্পায়নের স্বার্থে জমি নীতিতে বড় বদল, বিনিয়োগকারীদের অভয় দিলেন শমীক ভট্টাচার্য

পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের জোয়ার আনতে এবং জমি সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে বড়সড় বার্তা দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বারস অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (BNCCI)-এর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্যে বড় শিল্প আনার জন্য শীঘ্রই নতুন ‘ল্যান্ড পলিসি’ বা জমি নীতি নিয়ে আসবে নতুন সরকার। শমীকের এই বক্তব্যে পরিষ্কার যে, রাজ্যের ভোলবদল করতে বিজেপি সরকার এখন কর্মসংস্থান ও ভারী শিল্পের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে।
নতুন জমি নীতি ও বিনিয়োগের রূপরেখা
এ দিনের অনুষ্ঠানে শমীক ভট্টাচার্য বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে এক অভিনব প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি বলেন, “আপনাদের যদি ১০০০ একর জমির প্রয়োজন হয়, তবে ১১০০ একর জমি অধিগ্রহণ করুন। জমি উন্নয়নের পর অতিরিক্ত ১০০ একর জমি অনিচ্ছুক কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।” তাঁর মতে, সঠিক জমি নীতি ছাড়া বাংলার শিল্পের পুনরুজ্জীবন সম্ভব নয়। তিনি আরও যোগ করেন যে, আগামী দিনে শিল্প গড়তে গেলে কোনো রাজনৈতিক কর্মীকে টাকা দিতে হবে না এবং সরকার সম্পূর্ণ ভয়মুক্ত ও বাধাহীন পরিবেশ তৈরি করে দেবে।
পুরনো সরকারের সমালোচনা ও বর্তমান অবস্থান
পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে বিজেপি নেতা দাবি করেন, গত কয়েক বছরে পরিকল্পিতভাবে রাজ্যের বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছে। যার ফলে বাঙালি শিল্পপতিরা ওড়িশা, আসাম বা গোয়ার মতো রাজ্যে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন এবং পশ্চিমবঙ্গ ‘পরিযায়ী শ্রমিকদের’ রাজ্যে পরিণত হয়েছে। তবে শমীক এদিন স্পষ্ট করে দেন যে, “নতুন সরকার বিজেপি সরকার হিসেবে নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গ সরকার হিসেবে কাজ করবে।” সিঙ্গুর বা শালবনির মতো অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, তার জন্যই জমি নীতিতে এই আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
শিল্পপতিদের প্রতি আহ্বান
শমীক ভট্টাচার্য জানান, দেশের অনেক বড় শিল্পপতি ইতিমধ্যেই রাজ্যে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি তাঁদের সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন। রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বড় শিল্প আনাই তাদের প্রধান বিকল্প। জমি সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করে বাংলাকে আবারও দেশের প্রধান শিল্পকেন্দ্রে পরিণত করাই এই নতুন সরকারের লক্ষ্য।
