শুভেন্দু নাকি সুকান্ত? কার হাতে বাংলার চাবিকাঠি! গেরুয়া ঝড়ে তছনছ তৃণমূলের দুর্গ, কাউন্টডাউন শুরু – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলার রাজনীতির দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেই মাহেন্দ্রক্ষণ কি তবে এসে গেল? আগামী ৯ মে রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে এখন তুঙ্গে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক তৎপরতা। গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গেরুয়া শিবিরের জয়ের পর, দ্রুত গতিতে বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট। মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা নিয়ে টালবাহানা চললেও, সংবিধানের ১৭৪(২)(খ) ধারা প্রয়োগ করে বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল। ফলে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল এখন সময়ের অপেক্ষা।
সংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ ও রাজভবনের সক্রিয়তা
ভোটে হারের পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই জনমতকে ‘প্রকৃত জনমত’ নয় বলে দাবি করেছিলেন এবং ইস্তফা দিতে অস্বীকার করেন। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে রাজভবন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার লোক ভবন (প্রাক্তন রাজভবন) থেকে জানানো হয়, বর্তমান মন্ত্রিসভা ও বিধানসভা বিলোপের নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আইনি পথে সরকার গঠনের বাধা দূর হয়েছে এবং আগামী শনিবারই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।
মুখ্যমন্ত্রী কে? দৌড়ে নামছে হেভিওয়েটরা
সরকার গঠন নিশ্চিত হলেও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— কে বসছেন রাজ্যের মসনদে? রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ও জল্পনার কেন্দ্রে রয়েছেন বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই দৌড়ে সবথেকে এগিয়ে থাকলেও লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও বিশিষ্ট তাত্ত্বিক নেতা স্বপন দাশগুপ্তর নামও গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে। দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সবুজ সংকেত কার দিকে যায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
প্রভাব ও আগামীর সমীকরণ
এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ফলে প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের তৃণমূল জমানার অবসানের পর নতুন সরকারের নীতি ও আদর্শ রাজ্যের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে কৌতূহল সাধারণ মানুষের মধ্যে। একদিকে যেমন প্রশাসনিক আমলারা নতুন নির্দেশের অপেক্ষায়, অন্যদিকে গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বইছে জয়ের আনন্দ ও নতুন সরকার দেখার উন্মাদনা। সব মিলিয়ে ৯ মে তারিখটি বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক স্থায়ী মাইলফলক হতে চলেছে।
