শ্রাবণে নির্জলা উপবাসে কষ্ট? না খেয়ে নয়, এই সহজ নিয়মেও মিলবে মহাদেবের কৃপা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পবিত্র শ্রাবণ মাস পড়তেই দিকে দিকে শিবভক্তদের ঢল। প্রতি সোমবার দেবাদিদেব মহাদেবকে সন্তুষ্ট করতে অনেকেই কঠোর নির্জলা উপবাস বা ব্রত পালন করেন। তবে বর্তমানের ব্যস্ত রুটিন বা শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনেকের পক্ষেই সারাদিন জলস্পর্শ না করে থাকা সম্ভব হয় না। কিন্তু চিন্তার কোনো কারণ নেই! জ্যোতিষ ও শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, জোর করে শরীরকে কষ্ট দেওয়ার পক্ষপাতী নন ভোলানাথ। খাঁটি ভক্তি আর খাদ্যাভ্যাসের কয়েকটি সহজ নিয়ম মানলেই তাঁর অশেষ কৃপা লাভ করা সম্ভব।
শ্রাবণের সোমবারে কী কী খাওয়া একদম বারণ?
শিবের ব্রত পালন করতে চাইলে বা নিরামিষ নিয়ম মানতে হলে কয়েকটি খাবার খাদ্যতালিকা থেকে সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে:
- শস্যদানা নৈব নৈব চ: শাস্ত্র মতে, শ্রাবণের সোমবারে চাল বা ডাল দিয়ে তৈরি কোনো সাধারণ শস্যদানা খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।
- আমিষ ও তামসিক আহার নিষিদ্ধ: মাছ-মাংস তো বটেই, রান্নায় পেঁয়াজ ও রসুনের মতো তামসিক উপাদানও ব্যবহার করা যাবে না।
- নেশা বর্জন: ব্রতের দিন যেকোনো ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকা বাধ্যতামূলক। পুরো শ্রাবণ মাস এটি মেনে চলতে পারলে তা স্বাস্থ্যের পক্ষেও ভালো।
উপবাস না করে এই দিনে কী কী খেতে পারেন?
পেটে খিদে চেপে রাখা শাস্ত্রের উদ্দেশ্য নয়। তাই সুস্থ থাকতে এবং নিয়ম মানতে এই খাবারগুলো অনায়াসেই খেতে পারেন:
- লুচি বা পরোটা: চাল-ডাল নিষিদ্ধ থাকলেও ময়দা বা আটার তৈরি পদ, যেমন লুচি বা পরোটা এই দিনে খাওয়া যেতে পারে।
- হালকা নিরামিষ: পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া একদম হালকা ও সুপাচ্য নিরামিষ তরকারি খেতে পারেন।
- ফল, সাবু ও দই: ব্রতের দিনে ফলমূল, সাবু, খই এবং দই অত্যন্ত পবিত্র ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
- শামা চালের পদ: সাধারণ চালের বদলে ‘শামা চাল’ দিয়ে তৈরি ভাত বা খিচুড়ি খাওয়া সম্পূর্ণ শাস্ত্রসম্মত।
- সৈন্ধব লবণ: রান্নায় সাধারণ নুনের বদলে ব্রতের উপযুক্ত সৈন্ধব লবণ বা বিট নুন ব্যবহার করা সবচেয়ে শুভ।
সঠিক ভক্তি এবং খাদ্যাভ্যাসের এই নিয়মগুলো মেনে চললে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি দেবাদিদেবের আশীর্বাদ এবং মানসিক শান্তি দুই-ই অনায়াসেই লাভ করা যায়।
