সবাই ব্যবহার করলেও ভরসা নেই! কেন AI নিয়ে আতঙ্কিত Gen Z?

প্রযুক্তি ও তরুণ প্রজন্ম: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
বর্তমান বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। কর্মক্ষেত্র থেকে ব্যক্তিগত জীবন—সর্বত্রই এর প্রভাব স্পষ্ট। তবে প্রযুক্তির এই জয়যাত্রার মধ্যেও এক অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তথ্য বলছে, যে জেন-জি বা তরুণ প্রজন্ম এই প্রযুক্তি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করছে, তারাই এখন এটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সন্দিহান। এআই-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষের ধারণার এই বড় ব্যবধান এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞ বনাম সাধারণ মানুষ: দৃষ্টিভঙ্গির বিস্তর ফারাক
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশাল পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৬ শতাংশ বিশেষজ্ঞ মনে করেন এআই আগামী দুই দশকে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অথচ সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই আশা পোষণ করেন মাত্র ১০ শতাংশ। জনমনে এই প্রযুক্তি নিয়ে এক ধরণের সহজাত অবিশ্বাসের সুর স্পষ্ট।
স্বাস্থ্যসেবা ও আস্থার সংকট
চিকিৎসা বিজ্ঞানে এআই-এর ব্যবহার নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে গভীর সংশয়। প্রায় ৮৪ শতাংশ বিশেষজ্ঞের মতে, চিকিৎসাব্যবস্থা ও নির্ভুল রোগ নির্ণয়ে এআই বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে। এর বিপরীতে সাধারণ মানুষের মাত্র ৪৪ শতাংশ এই প্রযুক্তির ওপর ভরসা করতে পারছেন। অর্থাৎ, নিজের শারীরিক ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে মানুষের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করার মতো মানসিক প্রস্তুতি এখনো তৈরি হয়নি।
কর্মসংস্থান হারানোর ভয়
তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হলো তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার। এআই মানুষের কাজের ক্ষেত্র দখল করে নেবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘায়িত হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
- ৬৪ শতাংশ সাধারণ মানুষ মনে করেন, এআই-এর প্রসারের ফলে ভবিষ্যতে চাকরির বাজার সংকুচিত হয়ে পড়বে।
- বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ৭৩ শতাংশ মনে করেন, এআই মানুষের কাজের সক্ষমতাকে আরও উন্নত ও সহজতর করার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।
- তবে সাধারণ মানুষের মাত্র ২৩ শতাংশ মনে করেন যে, এআই তাদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা
এআই-এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার ঘাটতি স্পষ্ট। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পক্ষে বিশেষজ্ঞরা জোরালো মত দিলেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে একমত হতে পেরেছেন মাত্র ২১ শতাংশ। এছাড়া এই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকারি সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা। মাত্র ৩১ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে তাদের সরকার এআই সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম। অবশ্য এক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর ব্যতিক্রম, যেখানে ৮১ শতাংশ মানুষ তাদের সরকারের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার ওপর আস্থা রেখেছেন।
কেন এই অবিশ্বাস?
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জেন-জি প্রজন্মের এই অবিশ্বাসের মূলে রয়েছে তথ্যের সুরক্ষা এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। প্রযুক্তিবিদরা যেখানে উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেখানে সাধারণ মানুষ চিন্তিত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও জীবিকা নিয়ে। প্রযুক্তিটি যে তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে, তা সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে।
এক ঝলক
- এআই নিয়ে আশাবাদী মাত্র ১০ শতাংশ তরুণ প্রজন্ম।
- চাকরি হারানোর ভয়ে আছেন ৬৪ শতাংশ সাধারণ মানুষ।
- স্বাস্থ্যসেবায় এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের তুলনায় সাধারণ মানুষ দ্বিধাবিভক্ত।
- ৬৯ শতাংশ বিশেষজ্ঞ অর্থনীতির জন্য এআই-কে ইতিবাচক দেখলেও, সাধারণ মানুষের সমর্থন মাত্র ২১ শতাংশ।
- মাত্র ৩১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে, সরকার এআই প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
