সাভারকরের ১০ বার মুচলেকা জমার কথা আদালতে স্বীকার করলেন খোদ নাতি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে হিন্দুত্ববাদী তাত্ত্বিক বিনায়ক দামোদর সাভারকরের ১০ বার ক্ষমার আবেদন বা ‘মার্সি পিটিশন’ করার বিষয়টি পুনের আদালতে স্বীকার করে নিলেন তাঁর প্রপৌত্র সাত্যকি সাভারকর। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি ফৌজদারি মানহানি মামলার শুনানিতে স্পেশাল জাজ অমল শিন্দের আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি এই তথ্য মেনে নেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, বিপ্লবী ভগত সিং ও বটুকেশ্বর দত্তের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের আদর্শে অবিচল ছিলেন এবং ব্রিটিশদের কাছে কখনও মাথা নত করে আবেদন জানাননি।
ক্ষমার আবেদন ও আইনি যুক্তি
২০২৩ সালের মার্চ মাসে লন্ডনের একটি অনুষ্ঠানে সাভারকরের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের জেরে ওই বছর এপ্রিলে মানহানি মামলাটি দায়ের করেন সাত্যকি। শুনানিতে জেরার মুখে তিনি মেনে নেন যে, সাজা পাওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই সাভারকর প্রথম ক্ষমার আবেদনটি করেছিলেন এবং সরকারি আর্কাইভে এই সংক্রান্ত নথিপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। তবে সাভারকরের ‘বীর’ উপাধির সঙ্গে এই মুচলেকার বিষয়টি সাংঘর্ষিক নয় বলেই দাবি করেছেন তিনি। তাঁর যুক্তি, সাজা কমানোর জন্য এই আবেদন করা তৎকালীন ব্রিটিশ আইনি ব্যবস্থার একটি সাধারণ প্রক্রিয়া ছিল। ওই আবেদনপত্রে ব্রিটিশদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের কোনও ভাষা ছিল না। ব্রিটিশ সরকার সাভারকরের পুনরায় বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সেই আবেদনগুলি নাকচ করে দিয়েছিল।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক প্রভাব
আদালতে সাত্যকি আরও স্বীকার করেন যে, সমসাময়িক স্বাধীনতা সংগ্রামী রাজগুরু, ভগত সিং বা আশফাকুল্লা খান কখনও ব্রিটিশদের কাছে সাজা মকুবের আর্জি জমা দেননি। এই আইনি স্বীকারোক্তিটি দেশের বর্তমান রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাভারকরের মুচলেকা দেওয়া নিয়ে কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি দীর্ঘকাল ধরে যে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক সমালোচনা করে আসছে, খোদ সাভারকর-পরিবারের সদস্যের এই বয়ান সেই আখ্যানকেই প্রামাণ্য ভিত্তি দিল। এর ফলে আগামী দিনে সাভারকরের ঐতিহাসিক মূল্যায়ন ও হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির আদর্শগত অবস্থান নিয়ে জাতীয় স্তরে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলো।
