সাহেব! আমার ভাই আমাকে দিয়ে জোর করে এই কাজ করায়, মা বলে চুপচাপ সহ্য কর! যুবতীর মামলায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য – এবেলা

সাহেব! আমার ভাই আমাকে দিয়ে জোর করে এই কাজ করায়, মা বলে চুপচাপ সহ্য কর! যুবতীর মামলায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কানপুরের কল্যাণপুর থানা এলাকায় সম্পর্কের চরম অবক্ষয়ের এক নারকীয় ছবি সামনে এসেছে। ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী তাঁর নিজের বড় ভাই এবং মায়ের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। পেশায় সিকিউরিটি গার্ড ওই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের বোনকে যৌন হেনস্থা ও ধর্ষণ করে আসছিলেন। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, তরুণীর মা সব জেনেও ছেলের কুকর্মকে আড়াল করেছেন এবং মেয়েকে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছেন।

তন্ত্রমন্ত্রের আড়ালে পাশবিকতা তদন্তে জানা গেছে, ওই যুবক কেবল রক্ষী হিসেবেই কাজ করতেন না, বাড়িতে তন্ত্রমন্ত্রের চর্চাও করতেন। তরুণীর সঙ্গে অন্য এক যুবকের বন্ধুত্বের খবর পাওয়ার পর থেকেই তাঁর ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। বোনকে মানসিকভাবে অসুস্থ তকমা দিয়ে এবং তন্ত্রমন্ত্রের মাধ্যমে তাঁকে ‘সুস্থ’ করার অজুহাতে অভিযুক্ত ভাই নিয়মিত পাশবিক অত্যাচার চালাতেন। মা এই পুরো প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার পরিবর্তে ছেলের পক্ষ নিয়ে মেয়েকে হুমকি দিতেন বলে জানা গেছে।

পুলিশি পদক্ষেপ ও তদন্ত প্রাথমিকভাবে পুলিশ এই অভিযোগ শুনে কিছুটা বিস্মিত হলেও তদন্ত শুরু করার পর ঘটনার সত্যতা খুঁজে পায়। পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে যে, তরুণী প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হতো। শুক্রবার রাতে সহ্যশক্তির বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ওই তরুণী কোনোভাবে থানায় পৌঁছাতে সক্ষম হন। পুলিশ দ্রুত এফআইআর দায়ের করে অভিযুক্ত ভাইকে গ্রেফতার করেছে এবং মাকেও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

এই ঘটনার জেরে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের রক্ষকই যখন ভক্ষক হয়ে ওঠে এবং জন্মদাত্রী মা যখন তাতে ইন্ধন দেন, তখন সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দেয়। অভিযুক্তকে বর্তমানে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে এবং নির্যাতিতা তরুণীকে সবরকম আইনি ও নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

এক ঝলকে

  • নিজের বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনলেন ২৩ বছর বয়সী তরুণী।
  • মায়ের মদতে এবং তন্ত্রমন্ত্রের অজুহাতে বোনকে বাড়িতে আটকে রেখে দিনের পর দিন অত্যাচার চালানো হতো।
  • পুলিশি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর অভিযুক্ত ভাইকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে।
  • অন্য একজনের সঙ্গে মেলামেশার শাস্তি হিসেবে তরুণীর ওপর এই পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *