সোনারপুরে আক্রান্ত অভিষেক, বিজেপি বাংলার লজ্জা বলে তীব্র ক্ষোভ মমতার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে নিহত এক দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো ছোড়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক হয়ে ওঠে যে, শেষ পর্যন্ত আত্মরক্ষার জন্য মাথায় ক্রিকেট হেলমেট পরে হেঁটে তাঁকে নিহত কর্মীর বাড়িতে পৌঁছাতে হয়। এই নজিরবিহীন ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সোনারপুরের এই অনভিপ্রেত ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে তিনি লিখেছেন, শাসকই এখন ঘাতক। একই সঙ্গে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বিজেপিকে বাংলার লজ্জা বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি, তীব্র বিক্ষোভ ও হামলার অভিযোগের মুখে দাঁড়িয়েও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত থেকে একচুলও সরেননি। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের ঊর্ধ্বে উঠে শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য।
হামলার নেপথ্যে ও রাজনৈতিক তরজা
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সরাসরি বিজেপির দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, সোনারপুরে যে অশান্ত পরিবেশ ও বিক্ষোভ তৈরি করা হয়েছিল, তার নেপথ্যে সম্পূর্ণভাবে বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে তৃণমূলের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক মতভেদকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত সংঘাত এবং প্রতিহিংসার আবহ তৈরি করা হচ্ছে। সোনারপুরের এই হামলা সেই ধারাবাহিক প্রবণতারই একটি বিপজ্জনক বহিঃপ্রকাশ।
তীব্র সংঘাতের আশঙ্কায় রাজ্য রাজনীতি
সোনারপুরের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বড়সড় বিতর্ক ও অস্থিরতা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট-পরবর্তী হিংসা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে এমনিতেই রাজ্য রাজনীতি উত্তাল, তার ওপর রাজ্যের একজন শীর্ষ সারির নেতার ওপর এমন হামলার ঘটনা শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। এই ঘটনাপ্রবাহের জেরে আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জটিল রূপ ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
