সোনারপুরে নজিরবিহীন জনরোষের মুখে অভিষেক, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নিজেই হাসপাতালে মমতা – এবেলা

সোনারপুরে নজিরবিহীন জনরোষের মুখে অভিষেক, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নিজেই হাসপাতালে মমতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সোনারপুরে এক নিহতের বাড়িতে যাওয়ার পথে নজিরবিহীন জনরোষের মুখে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কামালগাজি এলাকায় তাঁকে কালো পতাকা দেখানোর পাশাপাশি তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে জুতো, ঢিল এবং কাদা ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বাহিনীর ঘেরাটোপে তাঁকে ওই এলাকা থেকে উদ্ধার করতে হয়। ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। সর্বভারতীয় স্তরে মল্লিকার্জুন খাড়গে ও অখিলেশ যাদবের মতো নেতারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

হামলার কারণ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি

স্থানীয় সূত্রের খবর, সোনারপুরে ঘটে যাওয়া একটি মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ জমছিল। এদিন বিকেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে সেই ক্ষোভ আছড়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এই ঘটনার জন্য বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য নেতা শমীক ভট্টাচার্য সকলকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তৃণমূলের তরফে কুণাল ঘোষ ও কৌস্তভ বাগচী এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো প্রবীণ মন্ত্রীরা পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনাস্থলে যান।

হাসপাতালে অভিষেক ও মমতার তৎপরতা

সোনারপুর থেকে ফেরার পথেই ইএম বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেখানে তাঁকে হুইলচেয়ার করে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। খবর পেয়েই দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেকের মা এবং তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। দীর্ঘদিন পর তৃণমূল শিবিরের এই সংকটে পাশে দাঁড়াতে হাসপাতালে দেখা যায় কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কেও।

প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে বেরনোর সময় মুখ্যমন্ত্রী জানান, পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাবে সেখানে সঠিক চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে না। এরপর নিজের গাড়িতেই অভিষেককে নিয়ে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনার ফলে আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *