স্ত্রীকে দিতে হবে ৫০ লাখ টাকার খোরপোশ, বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় স্বামীকেও বড় শিক্ষা দিল সুপ্রিম কোর্ট

সম্প্রতি বিবাহবিচ্ছেদের একটি মামলার শুনানিতে স্বামীপক্ষের পেশাদারিত্ব ও সততা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। নিম্ন আদালত ও হাইকোর্ট থেকে বিচ্ছেদের অনুমতি পাওয়ার পর ওই নারী ইতিমধ্যে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তবুও পূর্বতন স্বামী বিচ্ছেদের বিরোধিতা করে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত তাকে উল্টে ৫০ লাখ টাকা খোরপোশ প্রদানের নির্দেশ দেয়। স্বামী আদালতে নিজেকে ‘বেকার’ বা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে পরিচয় দিলেও বিচারপতির তীক্ষ্ণ মন্তব্যে পরিস্থিতি বদলে যায়।
বেকারত্বের অজুহাত ও আদালতের কড়া অবস্থান
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি লক্ষ্য করেন যে, মামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই স্বামী নিজেকে একজন সাধারণ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে দাবি করছেন। অথচ তিনি একসময় পেশাদার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। আদালত ক্ষোভের সঙ্গে জানায়, বিচ্ছেদের মামলা শুরু হলেই স্বামীদের মধ্যে ‘বেকার’ হয়ে যাওয়ার এক অদ্ভুত প্রবণতা দেখা যায়। দায়বদ্ধতা এড়াতে চাকরির ইস্তফা দেওয়া বা আয়ের উৎস গোপন করাকে আদালত গুরুত্ব দেয়নি। আবেদনকারীর স্ত্রী কোনো খোরপোশের দাবি না জানালেও, আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে এই বিশাল অঙ্কের টাকা দেওয়ার আদেশ দেয়।
মিথ্যা অভিযোগ ও আইনি প্রভাব
মামলাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা পরকীয়ার অভিযোগ। আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মিথ্যা অভিযোগ আনা এবং তা প্রমাণ করতে না পারা নিজেই এক ধরণের মানসিক নিষ্ঠুরতা, যা বিচ্ছেদের জন্য যথেষ্ট কারণ। আবেদনকারী স্বামী যখন জানান যে স্ত্রী নিজেই টাকা চাননি, তখন আদালত সাফ জানায় যে এটি আদালতের নির্দেশ এবং তাকে এই অর্থ দিতেই হবে। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট বার্তা দিল যে, আইনি মারপ্যাঁচে দায় এড়ানো সম্ভব নয়।
এক ঝলকে
- সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার থেকে ফ্রিল্যান্সার হওয়া স্বামীকে ৫০ লাখ টাকা খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ।
- স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়াকে ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য করেছে আদালত।
- বিচ্ছেদের মামলার সময় চাকরি ছেড়ে দেওয়া বা আয় গোপন করার কৌশলকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা।
- সন্তানের কাস্টডি সংক্রান্ত আবেদন খারিজ করে দ্রুত অর্থ পরিশোধের নির্দেশ।
