স্ত্রীর বিশ্বাসভাকতকতা ও ভাইয়ের প্রতারণা কেড়ে নিল যুবকের প্রাণ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চেন্নাইয়ের তিরুভোট্টিয়ুর মানালি পুডুনগর এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় ৩৭ বছর বয়সী মুথুকুমার নামের এক ব্যক্তি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। মানালি পৌর কর্পোরেশনের এই চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী নিজের বাড়িতেই গলায় ফাঁস দিয়ে জীবনাবসান ঘটান। মৃত্যুর আগে তিনি একটি সুইসাইড নোট এবং অডিও বার্তায় নিজের চরম যন্ত্রণার কথা জানিয়েছেন। মূলত নিজ স্ত্রীর পরকীয়া এবং নিকটাত্মীয়ের চরম বিশ্বাসঘাতকতাই তাকে এই পথে ঠেলে দিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আশ্রয়দাতার পিঠে চুরিকাঘাত
মুথুকুমার প্রায় এক বছর আগে তার নিঃসঙ্গ চাচাতো ভাই সতীশকুমারকে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সহমর্মিতাই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জীবনে। মুথুকুমার কাজে বেরিয়ে গেলে তার অনুপস্থিতির সুযোগে স্ত্রী গুণসুন্দরী ও সতীশকুমারের মধ্যে অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের এই গোপন সম্পর্কের পর গত ২০ দিন আগে বাপের বাড়ি যাওয়ার নাম করে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যান গুণসুন্দরী। স্ত্রীর এই আকস্মিক ও লজ্জাজনক বিচ্ছেদে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন মুথুকুমার।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য
মুথুকুমারের রেখে যাওয়া চিঠিতে উঠে এসেছে গভীর আবেগীয় যন্ত্রণার কথা। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, অন্য কোনো কারণে স্ত্রী চলে গেলে হয়তো তিনি মেনে নিতেন, কিন্তু নিজের ঘরে থাকা ভাইয়ের সাথে এমন প্রতারণা তিনি সহ্য করতে পারছেন না। বিশেষ করে মৃত্যুর কয়েকদিন আগে কাটানো অন্তরঙ্গ মুহূর্তের রেশ কাটতে না কাটতেই এই বেইমানি তাকে অসহায় করে তোলে। এদিকে পুলিশ প্রথমে আইনি ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানালে নিহতের আত্মীয়রা রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এক ঝলকে
- চেন্নাইয়ে স্ত্রীর পরকীয়া ও প্রতারণার শিকার হয়ে মুথুকুমার নামের এক ব্যক্তির আত্মহত্যা।
- নিজ বাড়িতে আশ্রয় পাওয়া চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গেই পালিয়ে যান অভিযুক্ত স্ত্রী গুণসুন্দরী।
- মৃত্যুর আগে সুইসাইড নোট ও অডিও বার্তায় স্ত্রী ও ভাইয়ের বিশ্বাসঘাতকতাকে দায়ী করেছেন নিহিত।
- দোষীদের শাস্তির দাবিতে স্বজনদের বিক্ষোভের পর তদন্ত শুরু করেছে মানালি পুলিশ।
