স্বামীকে টুকরো টুকরো করে কেটে রান্না করে খেলেন পাষণ্ড স্ত্রী! সেই ভয়াবহ ঘটনায় আজও কাঁপে বিশ্ব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ক্যালিফোর্নিয়ার হান্টিংটন বিচে ১৯৯১ সালে ঘটে যাওয়া একটি হত্যাকাণ্ড আজও অপরাধ জগতের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। ৫৬ বছর বয়সী পাইলট বিল নেলসন এবং তাঁর স্ত্রী ওমাইমা নেলসনের দাম্পত্যের মাত্র এক মাসের মাথায় এই চরম নিষ্ঠুরতার সাক্ষী হয়েছিল বিশ্ব। বিয়ের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিবাদের জেরে স্বামীকে হত্যা করে তাঁর দেহ টুকরো টুকরো করে রান্না করার মতো পৈশাচিক পথে হেঁটেছিলেন ওমাইমা।
প্রতিশোধ নাকি বিকৃত মানসিকতা
আদালতের নথিপত্র এবং ওমাইমার সাক্ষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে বিল নেলসন তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। শৈশবে চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার ওমাইমার দাবি, সেই ভয়াবহ স্মৃতি ও তাৎক্ষণিক আত্মরক্ষার তাগিদেই তিনি স্বামীকে বাতি ও কাঁচি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন। তবে হত্যার পরবর্তী ১২ ঘণ্টা তিনি যে নৃশংসতা চালিয়েছিলেন, তা কোনো সাধারণ আত্মরক্ষার সংজ্ঞায় পড়ে না। প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তিনি স্বামীর আঙুলের ছাপ মুছে ফেলতে হাত সেদ্ধ করেন এবং দেহের অবশিষ্টাংশ গার্বেজ ডিসপোজাল মেশিনে নষ্ট করার চেষ্টা করেন।
পুলিশি তদন্তে উঠে আসা নারকীয় দৃশ্য
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা নেলসনের অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করে শিউরে উঠেছিলেন। ফ্রিজের ভেতর শরীরের বিভিন্ন অংশ, কড়াইয়ে ভাজা হাতের তালু এবং কুলারের ভেতরে রাখা কর্তিত মস্তক দেখে হতবাক হয়ে যান অভিজ্ঞ গোয়েন্দারাও। ওমাইমা পরবর্তীকালে তাঁর মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে স্বীকার করেছিলেন যে, তিনি স্বামীর পাঁজরের মাংস বারবিকিউ সস দিয়ে রান্না করে খেয়েছিলেন। এই পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের কারণে আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে।
বর্তমানে ওমাইমা নেলসন ক্যালিফোর্নিয়ার কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। ইতিপূর্বে একাধিকবার প্যারোলের আবেদন জানালেও কারাগারে অশোভন আচরণ এবং মানসিকভাবে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় তাঁর মুক্তির আবেদন নাকচ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ৩০ বছর আগের এই ঘটনাটি আজও আইনি ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে একটি অন্ধকার অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে।
এক ঝলকে
- ১৯৯১ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় ওমাইমা নেলসন তাঁর স্বামী বিল নেলসনকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন।
- হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তিনি স্বামীর দেহ টুকরো টুকরো করে রান্না করেছিলেন।
- ওমাইমার দাবি ছিল শৈশবের মানসিক আঘাত এবং স্বামীর যৌন নিপীড়নের প্রতিশোধ হিসেবে তিনি এই কাজ করেছেন।
- বর্তমানে কারাবন্দী ওমাইমার প্যারোলের আবেদন তাঁর উগ্র আচরণের জন্য একাধিকবার বাতিল করা হয়েছে।
