স্বাস্থ্যসাথী গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর, জুলাই থেকেই বঙ্গে মিলবে আয়ুষ্মান ভারতের ক্যাশলেস সুবিধা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক বড়সড় পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে আগামী জুলাই মাস থেকে। রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করার বিষয়ে একটি বিরাট ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়ের পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী জুলাই মাস থেকেই রাজ্যের সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হবে আয়ুষ্মান ভারত কার্ড। প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্যের ৬ কোটিরও বেশি বর্তমান স্বাস্থ্যসাথী কার্ড গ্রাহক সরাসরি এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবেন এবং পরবর্তীতে এই পরিধি আরও বাড়ানো হবে। নতুন করে যাঁরা এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে চান, তাঁরাও জুলাই মাস থেকে সেই সুযোগ পাবেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের কোটি কোটি মানুষের চিকিৎসার খরচ এবং উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার পথ অনেক সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কোন কোন রোগের চিকিৎসা হবে সম্পূর্ণ ক্যাশলেস
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর ক্যাশলেস বা নগদহীন চিকিৎসা ব্যবস্থা। এই কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিখরচায় সরকারি এবং তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। সাধারণ যে কোনো অসুখ থেকে শুরু করে জটিল অস্ত্রোপচারের খরচও এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত। হৃদরোগের সমস্যা বা হার্টের অপারেশন, কিডনির জটিল অসুখ, ক্যান্সারের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা, নিউরোসার্জারি, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং প্রায় সব ধরনের জরুরি সার্জারি এই কার্ডের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা সম্ভব। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি থাকা, প্রয়োজনীয় ডায়গনিস্টিক টেস্ট বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অ্যাম্বুলেন্সের খরচও এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে পাওয়া যাবে।
পরিষেবার পরিধি ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই প্রকল্প চালুর ফলে রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে নাগরিকদের মনে রাখা প্রয়োজন, সব বেসরকারি হাসপাতালে এই সুবিধা মিলবে না। শুধুমাত্র যেসব বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিংহোমের সঙ্গে এই প্রকল্পের চুক্তি রয়েছে বা যারা নেটওয়ার্কের অধীনে রয়েছে, সেখানেই এই ক্যাশলেস সুবিধা পাওয়া যাবে। এই প্রকল্পের একটি বড় ইতিবাচক দিক হলো, এর নেটওয়ার্ক অত্যন্ত বিস্তৃত এবং এই কার্ড থাকলে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ভারতের অন্যান্য রাজ্যের বড় বড় হাসপাতালেও চিকিৎসার সুবিধা মিলবে। ফলে ভিনরাজ্যে গিয়ে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের পকেটের টান অনেকটাই কমবে। তবে ক্যাশলেস সুবিধার একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে; বছরে ৫ লক্ষ টাকার বেশি খরচ হলে সেই অতিরিক্ত ব্যয়ভার গ্রাহককে নিজেকেই বহন করতে হবে।
