হরমুজ সংকট কাটাতে ভারতের বিশেষ ব্লুপ্রিন্ট, যেভাবে নিরাপদে দেশে ফিরছে পণ্যবাহী জাহাজ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশিয়ার চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়তেই গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে বন্ধ রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেলের রুট হরমুজ প্রণালী। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথটি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই এই পথ বন্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, যার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে বাড়ছে পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম। তবে এই নজিরবিহীন সংকটের মধ্যেও ভারতে তেল ও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ সচল রয়েছে। চরম ঝুঁকির মাঝেই বিশেষ পরিকল্পনায় একের পর এক ভারতীয় জাহাজ নিরাপদে দেশে ফিরছে।
শুক্রবার ভারতের একাধিক মন্ত্রকের পক্ষ থেকে আয়োজিত একটি যৌথ মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনা হয়েছে। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজ চলাচলের সম্পূর্ণ রুট বা কৌশলগত গোপনীয়তা ফাঁস না করা হলেও, হরমুজ সংকটের মাঝে ভারত কীভাবে নিজেদের সরবরাহ ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখেছে, তার একটি রূপরেখা তুলে ধরেছে কেন্দ্র।
বহুমাত্রিক মন্ত্রকের সমন্বয় ও মাস্টারপ্ল্যান
কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রকের একটি নিখুঁত অভ্যন্তরীণ সমন্বয়। বন্দর মন্ত্রকের শিপিং ডিরেক্টর ওপেশ কুমার শর্মা জানিয়েছেন, ভারত ও ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্কের সমীকরণকে কাজে লাগিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে এই সমন্বয় রক্ষা করা হচ্ছে। জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী যাতে নির্বিঘ্নে দেশে পৌঁছাতে পারে, তার জন্য পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এবং সার মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা করে ‘জাহাজের অগ্রাধিকার’ (ভেসেল প্রায়োরিটি) নির্ধারণ করা হচ্ছে। এই সমন্বিত অগ্রাধিকার তালিকা প্রস্তুত করেই সংকটপূর্ণ এলাকা থেকে ভারতীয় জাহাজগুলিকে নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা চলছে।
ঝুঁকি ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখনও ১৩টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালীর কাছে আটকে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার, পাঁচটি ক্রুড অয়েলের ট্যাঙ্কার, একটি কেমিক্যাল ট্যাঙ্কার, তিনটি কনটেইনার শিপ, দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার ও একটি ড্রেজার। এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকছে, যা পরোক্ষভাবে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে উস্কে দিতে পারে। তবে চরম বিপদের মাঝেও এই মাস্টারপ্ল্যান কাজ করায় ইতিমধ্যেই শিবালিক, নন্দা দেবী, জগ লড়কি, পাইন গ্যাস, জগ বসন্তের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ নিরাপদে ভারতীয় বন্দরে এসে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
