হরমুজ সংকটে ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপ, কালো তালিকায় ৮৮টি বিদেশি জাহাজ! – এবেলা

হরমুজ সংকটে ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপ, কালো তালিকায় ৮৮টি বিদেশি জাহাজ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিম এশিয়ার সমুদ্রসীমায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের সামুদ্রিক নিয়ামক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিং (ডিজি শিপিং)। গত ১৩ মে ওমান উপসাগরে ভারতীয় জাহাজ ‘হাজি’ হামলার শিকার হয়ে ডুবে যাওয়ার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল ভারত সরকার। এরপরই প্রায় ৩৬৬টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে ভারতীয় নাবিকদের নিয়োগের ওপর জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

৮৮টি জাহাজ ব্ল্যাকলিস্টেড ও ২৭৮টির ওপর নিষেধাজ্ঞা

ডিজি শিপিংয়ের জারি করা সাম্প্রতিক সার্কুলার অনুযায়ী, মোট ৩৬৬টি বিদেশি জাহাজের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৮টি জাহাজকে ‘প্রতিবন্ধিত’ বা সীমিত বিধিনিষেধের আওতায় রাখা হয়েছে এবং ৮৮টি জাহাজকে সরাসরি ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ বা কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। একই সাথে সমস্ত রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড প্লেসমেন্ট সার্ভিস লাইসেন্স (আরপিএসএল) সংস্থাকে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে এই জাহাজগুলোতে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের সম্পূর্ণ তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন এবং ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করার কারণেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত।

অমানবিক আচরণ ও নিরাপত্তা সংকট

তদন্তে প্রকাশ, এই নিষিদ্ধ ও কালো তালিকাভুক্ত জাহাজগুলোর মালিকদের বিরুদ্ধে চরম অনিয়ম এবং অমানবিক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মাঝসমুদ্রে নাবিকদের অসহায় অবস্থায় ফেলে দেওয়া, সময়মতো বেতন না দেওয়া, ডিউটিরত অবস্থায় মৃত্যু বা নিখোঁজ হলে ক্ষতিপূরণ না দেওয়া এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপদে দেশে ফেরার ব্যবস্থা না করার মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর এবং স্ট্রেইট অব হরমুজ (হরমুজ প্রণালী) এলাকায় ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে সরবরাহ সংকট ও সমুদ্রপথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, মে ২০২৬ সালের মধ্যে অন্তত ৮ জন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার নাবিক পর্যাপ্ত খাবার ও বেতন ছাড়াই মাঝসমুদ্রে আটকে রয়েছেন।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সরকারি হুঁশিয়ারি

ডিজি শিপিং তাদের সরকারি আদেশে স্পষ্ট জানিয়েছে, নাবিকদের অধিকার রক্ষা, তাদের ফেলে যাওয়ার ঘটনা রোধ এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি সমুন্নত রাখতেই এই নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। যতদিন না সংশ্লিষ্ট জাহাজ মালিকরা নিরাপত্তা ও বেতনের সমস্ত শর্ত পূরণ করছেন, ততদিন এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। ভারতের এই অনমনীয় অবস্থানের ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং কো ম্পা নিগুলো বড় ধরনের কর্মী সংকটে পড়তে পারে। নিয়ম না মানলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের পক্ষ থেকে আরও কঠোর আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *