হিংসা রুখতে মরিয়া কমিশন, বিজয় মিছিলে জারি একগুচ্ছ কড়া বিধিনিষেধ

পশ্চিমবঙ্গের ২৯৩টি আসনে ভোট গণনার টানটান উত্তেজনার মধ্যেই ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে কঠোর অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। প্রাথমিক প্রবণতায় রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের ইঙ্গিত মিলতেই অশান্তি এড়াতে তৎপর হয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। বিজয় মিছিল এবং আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোকে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশৃঙ্খলা রুখতে কোনো আপস করা হবে না।
বিজয় মিছিলে জেলাশাসকদের সবুজ সংকেত বাধ্যতামূলক
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলো চাইলেই যত্রতত্র বিজয় মিছিল করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা জেলাশাসকদের (DM)। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে জেলাশাসকরা অনুমতি দিলেই কেবল মিছিল করা সম্ভব হবে। আজ সাংবাদিক বৈঠকে সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন, “বিজয় মিছিলের ওপর সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে আজ উদযাপন না করাই শ্রেয়। একান্তই মিছিল করতে হলে কমিশনের আগাম অনুমতি নিতে হবে।”
নিরাপত্তার চাদরে গণনাকেন্দ্র ও ফলতা পরিস্থিতি
রাজ্যজুড়ে ৪৫৮টি গণনাকেন্দ্রে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমন্বয়ে এই দুর্ভেদ্য নিরাপত্তায় ভোটগণনা চলছে। এবারের নির্বাচনে হিংসার ঘটনা তুলনামূলক কম হলেও দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা নিয়ে উদ্বিগ্ন কমিশন। ছাপ্পা ভোট ও ভুয়ো ভোটারের অভিযোগ ওঠায় সেখানে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন সেখানে অশান্তি ছড়াল, তা খতিয়ে দেখছে কমিশন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো ভোটের ফল প্রকাশের পর বাংলায় দীর্ঘদিনের ‘পোস্ট পোল ভায়োলেন্স’ বা ভোট-পরবর্তী হিংসার কলঙ্ক মোচন করা। বিশেষ করে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আবহে ক্ষমতা পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সমর্থকদের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা প্রবল। কমিশনের এই বিধিনিষেধ এবং জেলাস্তরে অনুমতির কড়াকড়ি রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনুমতি ছাড়া মিছিল করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কমিশন।
