‘১৮ বছরের লড়াই, আইপিএল না জিতলেও আক্ষেপ থাকত না!’ বিরাটের অকপট স্বীকারোক্তি – এবেলা

‘১৮ বছরের লড়াই, আইপিএল না জিতলেও আক্ষেপ থাকত না!’ বিরাটের অকপট স্বীকারোক্তি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ক্রিকেট মাঠে তাঁর আগ্রাসন, দক্ষতা এবং ধারাবাহিকতা বিশ্বজুড়ে বন্দিত। দীর্ঘ কেরিয়ারে অসংখ্য রেকর্ডের মালিক তিনি। কিন্তু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) সাম্প্রতিক এক পডকাস্টে উপস্থাপিকা মায়ান্তি ল্যাঙ্গারের মুখোমুখি হয়ে নিজের কেরিয়ার, আইপিএল জয়, অবসর এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে সম্পূর্ণ এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করলেন বিরাট কোহলি। জানালেন, কেরিয়ারের এই পর্যায়ে এসে ট্রফি জয়কেই তিনি একমাত্র সাফল্য মনে করেন না, বরং মাঠে দর্শকদের আবেগ এবং নিজের পারফরম্যান্সের প্রভাবই তাঁর কাছে শেষ কথা।

আইপিএল জয় ও আক্ষেপের সমীকরণ

১৮ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আরসিবি-র ট্রফি জয় নিয়ে কোহলি জানান, সেই মুহূর্তের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তবে আইপিএল জিততে না পারলে কি আক্ষেপ থাকত? বিরাটের স্পষ্ট উত্তর, খেতাব না পেলে সারা জীবন আক্ষেপ থাকত না, তবে একটা অতৃপ্তি হয়তো কাজ করত। সময়ের সাথে সাথে শিরোপার সংজ্ঞা তাঁর কাছে বদলেছে। কোহলির মতে, শুধু ট্রফি জেতা নয়, মাঠে পারফর্ম করার সময় কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা ও আবেগের মর্যাদা দেওয়া এবং নিজের খেলার মাধ্যমে কতটা প্রভাব তৈরি করা যাচ্ছে, সেটাই আসল।

টেস্ট ক্রিকেটের সোনালি অধ্যায় ও নেতৃত্ব

নিজের অধিনায়কত্বে ভারতীয় টেস্ট দলের সোনালি সময়ের কথা স্মরণ করেছেন কোহলি। ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে নাটকীয়ভাবে টেস্ট দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর, চেতেশ্বর পুজারা, অজিঙ্ক রাহানে, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, মহম্মদ শামিদের মতো সমসাময়িক তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে একটি শক্তিশালী দল গড়ে তুলেছিলেন তিনি। বিদেশের মাটিতে একের পর এক সাফল্যের কারণ হিসেবে কোহলি জানান, দলে সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে বয়সের ব্যবধান কম থাকায় সকলেই সমানভাবে দায়িত্ব ভাগ করে নিতেন, যা দলকে দীর্ঘ মেয়াদে সাফল্য এনে দিয়েছিল।

কঠোর প্রস্তুতি এবং ২০২৭ বিশ্বকাপের লক্ষ্য

বয়স ৩৭ ছুঁইছুঁই হলেও কোহলির ফিটনেস ও খেলার খিদে তরুণদের মতোই। তিনি জানান, কোনও নির্দিষ্ট সিরিজ়ের আগে নয়, বরং সারা বছরই নিজেকে ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত রাখেন। নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন, শরীরচর্চা ও খাদ্যাভ্যাসের কারণেই বছরের যেকোনো সময় মাঠে নেমে পড়ার ক্ষমতা রাখেন তিনি। নিজের এই কঠোর পরিশ্রমের পেছনে তাঁর আগামী লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার লক্ষ্যেই তিনি নিজেকে প্রতিনিয়ত তাতিয়ে চলেছেন।

দলে নিজের জায়গা বা ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো রকম ধোঁয়াশা পছন্দ করেন না এই তারকা ব্যাটার। তাঁর সাফ কথা, যতদিন দলে অবদান রাখতে পারবেন এবং ক্রিকেট উপভোগ করবেন, ততদিনই তিনি খেলে যাবেন। যদি কখনো মনে হয় তাঁর যোগ্যতা কমেছে, তবে তিনি নিজেই সরে দাঁড়াবেন। তবে এই মুহূর্তে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য দেশের হয়ে আরও একটি বিশ্বকাপ জয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *