২০৪৭-এর ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার চাবিকাঠি ‘বিকশিত বাংলা’, রেড রোডে মুখ্যমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ভাষণ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেড রোডে এক ঐতিহাসিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের অনুষ্ঠানে একটি অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়—রেড রোডের কুচকাওয়াজে প্রথমবার ধ্বনিত হয় জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর সুর। এছাড়া, প্যারেড পরিচালনায় প্রথমবারের মতো দুজন কম্যান্ডারকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। কর্মক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য রাজ্য পুলিশের ১৪ জন কৃতী IPS আধিকারিককে ‘মুখ্যমন্ত্রীর পদক’-এ ভূষিত করা হয়।
রেড রোড থেকে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী এক নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলার রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার স্বপ্ন তখনই সফল হবে, যখন একটি ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ে উঠবে। দেশের সার্বিক অগ্রগতির জন্য বাংলার উন্নয়ন অপরিহার্য। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো মহান মনীষী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আদর্শ স্মরণ করে তিনি বলেন, রাজ্যের হারানো গৌরব ফিরিয়ে এনে পশ্চিমবঙ্গকে দেশের শ্রেষ্ঠ রাজ্যে পরিণত করাই নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
রাজ্যের সর্বাঙ্গীন বিকাশে প্রশাসনের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে চিহ্নিত করেন:
- কর্মসংস্থান ও সুশাসন: যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে আসামতা দূর করে সুশাসন পৌঁছে দেওয়া।
- নারী সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন: মহিলাদের সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তা জোরদার করা ও তাঁদের আত্মনির্ভর করে তোলা।
- আইনশৃঙ্খলা সুদৃঢ় করা: কড়া হাতে অপরাধ দমন করে রাজ্যে শান্তি ও স্থায়িত্ব বজায় রাখা।
অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল রাজ্য সরকারের ঐতিহ্য ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প তুলে ধরা ১২টি সুসজ্জিত ট্যাবলো। এর মধ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে তৈরি ট্যাবলোর পাশাপাশি ‘অন্নামৃত’, ‘কন্যারত্ন’, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’, ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির’ ও ‘দুর্গাশক্তি বাহিনী’র ট্যাবলো এবং কলকাতা পুলিশ ও পুরসভার প্রদর্শনী নজর কাড়ে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে রেড রোডে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুরো শহরজুড়ে প্রায় ৩ হাজার অতিরিক্ত পুলিশ কর্মী, ৯টি PCR ভ্যান, ৩টি QRT টিম এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ পিকেট বসিয়ে এক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছিল।
