৮০০ বছরের ইতিহাস কি শুধুই জরাজীর্ণ ধ্বংসাবশেষ! তেলেঙ্গানায় মন্দির ভাঙা নিয়ে তোলপাড়

৮০০ বছরের ইতিহাস কি শুধুই জরাজীর্ণ ধ্বংসাবশেষ! তেলেঙ্গানায় মন্দির ভাঙা নিয়ে তোলপাড়

তেলেঙ্গানার ওয়ারাঙ্গাল জেলায় কাকতীয় আমলের একটি ৮০০ বছরের পুরনো শিব মন্দির ভেঙে ফেলার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি সরকারি স্কুল নির্মাণের জন্য জমি পরিষ্কার করতে গিয়ে কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই বুলডোজার দিয়ে প্রাচীন এই কাঠামোটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ত্রয়োদশ শতকের এই ঐতিহাসিক নিদর্শনে রাজা গণপতিদেবের আমলের বিরল শিলালিপি ছিল বলে জানা গেছে, যা এই অঞ্চলের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী।

কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ ও আইনি জটিলতা

প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এই মন্দির ধ্বংসের বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই দিল্লির দরবারে অভিযোগ পৌঁছেছে। জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ কর্তৃপক্ষের কাছে এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করেছেন মানবাধিকার আইনজীবী রমা রাও ইম্মানেনি। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি এবং ইতিহাস মন্ত্রক রাজ্য সরকারের কাছে কৈফিয়ত তলব করেছে। অনুমতি ছাড়া মন্দির ভাঙার দায়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তেলেঙ্গানা ঐতিহ্য আইনের ৩০ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

প্রশাসনের সাফাই ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

বিতর্ক তুঙ্গে উঠলে জেলা প্রশাসন একটি বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, এলাকাটি পরিষ্কার করার সময় তারা কেবল একটি ‘জরাজীর্ণ কাঠামোর ধ্বংসাবশেষ’ পেয়েছিল এবং সেটি সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে নথিভুক্ত ছিল না। তবে জনরোষের মুখে পড়ে পিছু হটেছে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। তারা জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞ স্থপতি এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পরামর্শ নিয়ে ওই একই স্থানে মন্দিরটি পুনরায় নির্মাণ করা হবে এবং স্থানটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সুরক্ষিত ঘোষণা করা হবে।

এক ঝলকে

  • তেলেঙ্গানার ওয়ারাঙ্গালের অশোক গরে স্কুল তৈরির জন্য বুলডোজার দিয়ে ৮০০ বছরের পুরনো কাকতীয় শিব মন্দির ভেঙে ফেলার অভিযোগ।
  • ঘটনায় ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে এবং অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি উঠেছে।
  • ১২৩১ খ্রিস্টাব্দের প্রাচীন শিলালিপি সম্বলিত এই মন্দিরটি সংরক্ষণ না করে ভেঙে ফেলায় প্রত্নতাত্ত্বিক মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
  • প্রবল জনরোষের মুখে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বিধায়ক ওই স্থানেই মন্দিরটি পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *