অবশেষে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি! ১০৭ দিনের সংঘাত মিটিয়ে হরমুজ প্রণালী খুলল আমেরিকা ও ইরান – এবেলা

অবশেষে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি! ১০৭ দিনের সংঘাত মিটিয়ে হরমুজ প্রণালী খুলল আমেরিকা ও ইরান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ওয়াশিংটন: দীর্ঘ ১০৭ দিন ধরে চলা চরম যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এক ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করল আমেরিকা ও ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘ সংঘাতের অবসানের পাশাপাশি খুলে দেওয়া হয়েছে কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর দরজাও। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা আবার স্বাভাবিক হতে চলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই যুগান্তকারী চুক্তির ঘোষণা করেছেন।

ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে। আমি সবাইকে অভিনন্দন জানাই! এই চুক্তি সমগ্র অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনবে।” পূর্বসূরিদের নিশানা করে তিনি আরও দাবি করেন, এর আগে অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে শান্তি স্থাপনে ব্যর্থ হলেও, এই অঞ্চলের মানুষ এবার এমন একজন প্রেসিডেন্ট পেলেন যিনি প্রকৃত শান্তি নিয়ে এলেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পরেই হরমুজ প্রণালীতে বসানো ল্যান্ডমাইন সরানোর কাজ শুরু হয়েছে এবং মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে।

১৪টি শর্তে মিলল রফা:

সূত্রের খবর, ওমানের মধ্যস্থতায় মোট ১৪টি মূল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। যার মধ্যে প্রধান শর্তগুলি হলো:

  • ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমেরিকা কোনও হস্তক্ষেপ করবে না।
  • আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বন্দরগুলি থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হবে।
  • ইরান থেকে সমস্ত মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া হবে।
  • লেবানন সহ সমস্ত ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
  • ইরান আন্তর্জাতিক মঞ্চে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
  • ইরানের তেল ও জ্বালানি পণ্যের ওপর থেকে সমস্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।
  • যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের পুনর্গঠনে আমেরিকা ও তার সহযোগী দেশগুলি প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সাহায্য দেবে।

যদিও এই চুক্তি প্রসঙ্গে ইরানের তরফ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, খুব দ্রুতই সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে ঘোষণা করা হবে। এই চুক্তি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং বিশ্ব অর্থনীতি বড়সড় স্বস্তি পাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *