আইএসআইয়ের নিশানায় শুভেন্দু! চিনার পার্কের বাড়িতে রেকি করলেও সিসিটিভির ভয়ে পিছিয়ে যান জঙ্গি হামিম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ একাধিক প্রভাবশালী নেতা-মন্ত্রীর ওপর নজরদারি এবং নাশকতার ছক কষেছিল পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী। জঙ্গিযোগের অভিযোগে সম্প্রতি বর্ধমান থেকে ধৃত হামিম মণ্ডলকে জেরায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF) সূত্রে জানা গেছে, শুভেন্দুর চিনার পার্কের বাড়ির আশপাশে এবং তাঁর যাতায়াতের রাস্তায় একাধিকবার গিয়ে রেকি করেছিলেন হামিম।
এমনকি শুভেন্দুর বাসভবনের ছবি বা ভিডিয়ো তোলার চেষ্টা করলেও, এলাকাটি সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরায় মোড়া থাকায় চিহ্নিত হয়ে যাওয়ার ভয়ে পিছিয়ে আসেন তিনি। মোবাইল টাওয়ার লোকেশন খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হলেও, প্রথমে রেকি করার কথা অস্বীকার করেন হামিম। পরে অবশ্য জেরার মুখে স্বীকার করেন যে, পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের নির্দেশ ছিল—সিসিটিভিতে ধরা না পড়ে যেন ভিডিয়ো বা ছবি তোলা হয়।
উল্লেখ্য, এই আন্তর্জাতিক চক্রান্তে হামিমের পাশাপাশি তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকার এবং আদিত্য সিংহ ওরফে রাজ নামে আরও এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI) এবং সে দেশের কুখ্যাত গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির নেটওয়ার্কের সঙ্গে তারা সরাসরি যুক্ত ছিল। প্রভাবশালী নেতা ও আমলাদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার জন্য অর্পিতাকে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, হত্যা ও নাশকতার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে এক বড় ধরণের অস্থিরতা তৈরি করাই ছিল পাক গুপ্তচরদের মূল লক্ষ্য। ঘটনায় প্রকাশ পাওয়ার পরই শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন যে এই রাজ্যে ভাট্টি গোষ্ঠীর আর কোনো সমান্তরাল নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে কি না।
