আমার ছেলের পিরিয়ডস সম্পর্কে জ্ঞান আছে! ১২ বছরের ছেলের মানবিকতায় আপ্লুত নেটিজেনরা – এবেলা

আমার ছেলের পিরিয়ডস সম্পর্কে জ্ঞান আছে! ১২ বছরের ছেলের মানবিকতায় আপ্লুত নেটিজেনরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী গিরিজা ওক সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তাঁর ১২ বছর বয়সী ছেলে কবিরের একটি বিশেষ গুণের কথা শেয়ার করেছেন। পিরিয়ড বা ঋতুচক্রের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই সঠিক ধারণা দেওয়া কতটা জরুরি, তা কবিরের একটি আচরণের মাধ্যমে উঠে এসেছে। অভিনেত্রীর এই দূরদর্শী চিন্তাভাবনা এবং সামাজিক মূল্যবোধ বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

মেট্রো সফরের সেই অনন্য ঘটনা

ঘটনাটি ঘটেছিল কবিরের স্কুল ছুটির পর মেট্রোতে বাড়ি ফেরার সময়। কবির লক্ষ্য করে যে তার এক সহপাঠী শারীরিক অস্বস্তিতে ভুগছে। পিরিয়ড সংক্রান্ত প্রাথমিক জ্ঞান থাকায় সে পরিস্থিতিটি দ্রুত বুঝতে পারে এবং তৎক্ষণাৎ মেট্রোতে একটি আসন নিশ্চিত করে মেয়েটিকে সেখানে বসিয়ে দেয়। সহপাঠীর প্রতি এই দায়িত্বশীল আচরণ ও সংবেদনশীলতা দেখে অভিভূত হন মেয়েটির পরিবার। পরবর্তীতে তারা গিরিজার পরিবারকে ফোন করে কবিরের এই চমৎকার আচরণের জন্য ধন্যবাদ জানান।

শিক্ষার প্রভাব ও সামাজিক বার্তা

গিরিজা ওক জানান, বাড়িতে পোষা প্রাণীদের শারীরিক চক্র এবং মানুষের ঋতুচক্রের পার্থক্য তিনি সহজভাবে ছেলেকে বুঝিয়েছিলেন। এই খোলামেলা আলোচনার কারণেই কবির এমন পরিস্থিতিতে ঘাবড়ে না গিয়ে অত্যন্ত সম্মানের সাথে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পেরেছে। অভিনেত্রীর মতে, সঠিক সময়ে সঠিক শিষ্টাচার শেখানো হলে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে জেন্ডার সেনসিটিভিটি বা লিঙ্গ সচেতনতা অনেক বেশি দৃঢ় হবে।

এই ঘটনার সামাজিক প্রভাব অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি প্রমাণ করে যে, পরিবার থেকে যৌন স্বাস্থ্য এবং নারীদের শারীরিক পরিবর্তন সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া হলে সামাজিক ট্যাবূ বা কুসংস্কার দূর করা সম্ভব। কবিরের এই ছোট পদক্ষেপটি ভবিষ্যতে আরও সংবেদনশীল ও শ্রদ্ধাশীল সমাজ গঠনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন নেটিজেনরা।

এক ঝলকে

  • অভিনেত্রী গিরিজা ওকের ১২ বছর বয়সী ছেলে কবিরের সময়োচিত আচরণে মুগ্ধ নেটদুনিয়া।
  • স্কুলে পিরিয়ড শুরু হওয়া সহপাঠীকে মেট্রোতে বসার জায়গা করে দিয়ে সাহায্য করে কবির।
  • বাড়িতে পিরিয়ড সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনার কারণেই পরিস্থিতি বুঝতে সক্ষম হয় সে।
  • সন্তানদের সঠিক শিষ্টাচার ও লিঙ্গ সচেতনতা শেখানোর গুরুত্ব আবারও সামনে এলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *