‘আমি জিতলে জনগণ ভালো, আর হারলেই সব চুরি!’ মমতার কোর্টে যাওয়া নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ঋতব্রতর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: ভবানীপুর কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়া নিয়ে এবার তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হলো। মঙ্গলবার সকালেই হাইকোর্টে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের বিরুদ্ধে পিটিশন দাখিল করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। আর এই খবর কানাকানি হতেই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি তাঁকে বেনজির ভাষায় আক্রমণ শানালেন।
তৃণমূল নেত্রীর এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে ঋতব্রত ব্যানার্জি স্পষ্ট বলেন, “আমি শুধু একটাই কথা বুঝি, বাংলার মানুষ আমাদের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। বাংলার জনমত আমাদের বিপক্ষে গিয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে আমি জিতলে জনগণ আমার পক্ষে, আর হেরে গেলেই সব চুরি হয়ে গেল, লুট হয়ে গেল—এই মানসিকতা মানুষ ভালো চোখে নেয় না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, জনগণের রায়কে সবসময় মাথা পেতে নেওয়া উচিত এবং হারের দায় স্বীকার করেই আবার মানুষের কাছে যাওয়া উচিত।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তিনি আরও একহাত নিয়ে বলেন, “মানুষ যখন সমর্থন করেন, সেই কৃতিত্ব যেমন মানুষের, তেমনই মানুষ যখন মুখ ফিরিয়ে নেন, সেই সবটুকু দায়ও আমাদের নেওয়া উচিত। আমি যদি সেই দায় মাথায় না নিয়ে উলটে বলি যে আমি হারিনি, জিতেছি—তবে সাধারণ মানুষ সেটা একদমই ভালোভাবে নেন না।”
হাইকোর্টে মমতা, সঙ্গী কুণাল-দোলা:
উল্লেখ্য, এর আগে নন্দীগ্রামের হারকেও আদালতে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ভবানীপুরের হার নিয়েও একই পথে হাঁটলেন তিনি। মঙ্গলবার শুভেন্দু অধিকারীর জয়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে হলফনামা দাখিল করতে যান মমতা। তাঁর সঙ্গে এদিন আদালত চত্বরে উপস্থিত ছিলেন কুণাল ঘোষ, দোলা ব্যানার্জি এবং কল্যাণ ব্যানার্জির পুত্র শীর্ষাণ্য ব্যানার্জিও। হলফনামা দাখিল করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আদালত চত্বর ছেড়ে বেরিয়ে যান তৃণমূল সুপ্রিমো।
বিধানসভার বৈঠকে ব্রাত্য শোভনদেব-কুণাল!
অন্য দিকে, বিধানসভার অধিবেশন শুরুর আগে মঙ্গলবার একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন বাড়িয়ে দিয়ে সূত্রের খবর মিলেছে, সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ডাক পাননি তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এমনকি ব্রাত্য রাখা হয়েছে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকেও, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শাসক শিবিরের অন্দরে নতুন সমীকরণের জল্পনা শুরু হয়েছে।
