আমেরিকার ধারেকাছেও নেই চীন, ভারত নেমে গেল ষষ্ঠ স্থানে!আইএমএফ প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২৬ সালের এপ্রিলের ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাস’ প্রতিবেদনে বৈশ্বিক অর্থনীতির এক নাটকীয় পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেছে। বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির মোট আকার ১২৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৬.৪ ট্রিলিয়ন ডলার বেশি। তবে এই প্রবৃদ্ধির মাঝেও ক্ষমতাধর দেশগুলোর অবস্থানে বড় ধরনের রদবদল লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্র এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা চীনের মধ্যকার ব্যবধান কমার পরিবর্তে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একাধিপত্য ও চীনের সংকট
আইএমএফ-এর তথ্যমতে, ২০২৬ সালে মার্কিন অর্থনীতি ৩২.৩৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। দেশটির অর্থনৈতিক শক্তি এখন এতটাই বিশাল যে চীন, জার্মানি ও জাপানের সম্মিলিত অর্থনীতির চেয়েও আমেরিকা বড়। এক সময়ের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের বর্তমান অর্থনীতি ২০.৯ ট্রিলিয়ন ডলারে থমকে আছে, যার ফলে দুই দেশের ব্যবধান এখন ১১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আবাসন খাতের অস্থিরতা, রপ্তানি শুল্কের চাপ এবং তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে চীন তার প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা দেশটিকে শীর্ষস্থান থেকে আরও দূরে ঠেলে দিচ্ছে।
ভারতের অবস্থান ও বৈশ্বিক প্রভাব
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চতুর্থ স্থানে উঠে আসা ভারত কিছুটা ধাক্কা খেয়ে ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছে। জাপান এবং ব্রিটেন আবারও ভারতকে টপকে যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান দখল করেছে। ভারতের জিডিপি বৃদ্ধি পেলেও ডলারের বিপরীতে রুপির মান কমে যাওয়া এবং বৈশ্বিক উত্তেজনার ফলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ভারতের ডলার-ভিত্তিক জিডিপিকে প্রভাবিত করেছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৯০টির বেশি দেশের মোট অর্থনীতির চেয়েও আমেরিকা ও চীনের সম্মিলিত শক্তি অনেক বেশি শক্তিশালী, যা বৈশ্বিক সম্পদের আসাম বণ্টনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
এক ঝলকে
- ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির আকার ১২৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
- ৩২.৩৮ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি নিয়ে শীর্ষস্থান মজবুত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
- আবাসন ও রপ্তানি সংকটের কারণে চীনের প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়ে ব্যবধান বেড়েছে।
- মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও তেলের দাম বাড়ায় ভারত বিশ্বের ষষ্ঠ অর্থনীতিতে নেমে গেছে।
