আরজি কর তদন্তে বিরাট মোড়! সরকার বদলাতেই কি কড়া পদক্ষেপ? মুখ খুললেন চন্দন-চিরঞ্জিত – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/15/chiranjit-2026-05-15-16-23-50.jpg)
এবেলা ডেস্কঃ
ক্ষমতা বদল হতেই কি অবশেষে আরজি কর কাণ্ডের জট খুলতে চলেছে? রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করতেই আরজি কর মামলার তদন্তে নাটকীয় মোড় এসেছে। আরজি কর কাণ্ডের তদন্ত ও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং তৎকালীন টালা থানার আইসি অভিষেক গুপ্ত—এই তিন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সরকারের এই কড়া পদক্ষেপের পর থেকেই রাজনৈতিক মহল ও টলিপাড়ায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জলহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছেন আরজি করের নিহত চিকিৎসকের মা। তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে তাঁর এই জয় এবং প্রশাসনে নতুন সরকারের আগমন—দুইয়ে মিলে আরজি করের বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত গতি পাবে বলে আশা করছেন সাধারণ মানুষ। তবে এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে টলিপাড়ার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের গলায়।
নতুন সরকারের তৎপরতা ও স্থায়ীত্বের প্রশ্ন
আরজি কর কাণ্ডের আন্দোলনে প্রথম থেকেই প্রথম সারিতে থেকে রাজপথে লড়াই করেছেন অভিনেতা চন্দন সেন। আইপিএস অফিসারদের সাসপেনশনের খবর সামনে আসতেই তিনি কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। এখনই কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে নারাজ এই বামপন্থী মনোভাবাপন্ন অভিনেতা। তাঁর মতে, নতুন কোনো সরকার ক্ষমতায় এলে প্রথম প্রথম কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তন ও তৎপরতা দেখা যায়। ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট সরকার কিংবা ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। তবে এই পরিবর্তনের স্থায়িত্ব কতটা হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। দেশের অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, এখনই উল্লাসের সময় আসেনি, বরং ধৈর্য ধরে পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
প্রশাসনিক সদিচ্ছা ও বিচারের আশা
অন্য এক ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক তথা অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর গলায়। এবারের নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও, আরজি কর কাণ্ডের নতুন মোড়ে তিনি যথেষ্ট আশাবাদী। চিরঞ্জিতবাবুর মতে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম পাঁচ বছর প্রতিশ্রুতির কারণে দারুণ কাজ করে। যেহেতু বর্তমানে কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই দলের সরকার রয়েছে, তাই তদন্তপ্রক্রিয়া আরও মসৃণ হবে বলে তিনি মনে করেন।
এই ঘটনার নেপথ্যে মূল অপরাধীদের পাশাপাশি আর কারা জড়িত ছিল এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের পেছনে কাদের হাত ছিল, তা প্রকাশ্যে আসা জরুরি বলে চিরঞ্জিত চক্রবর্তী উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে টলিপাড়ার অভিনেতা রাহুলের রহস্যমৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আরজি কর কাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্যে বিদায়ী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র জনবিক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, যা সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে শাসকদলের পতনের অন্যতম বড় কারণ। ফলে, ক্ষমতায় এসেই নতুন সরকার এই মামলার তদন্তে কড়া পদক্ষেপ নিয়ে জনমানসে নিজেদের সদিচ্ছা প্রমাণ করতে চাইছে। দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা তদন্তে এই উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তাদের সাসপেনশন আগামী দিনে বাকি অভিযুক্তদের ওপর চাপ বাড়াবে। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের শাসন থাকায় সিবিআই এবং রাজ্য পুলিশের সমন্বয় আরও জোরদার হতে পারে, যা আরজি কর মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পথকে প্রশস্ত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
