কলকাতার বাইরেও এবার ছুটবে মেট্রো, জেলায় জেলায় বিপুল পরিকাঠামো উন্নয়নের জোয়ার! – এবেলা

কলকাতার বাইরেও এবার ছুটবে মেট্রো, জেলায় জেলায় বিপুল পরিকাঠামো উন্নয়নের জোয়ার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে এক ধাক্কায় কয়েক গুণ এগিয়ে নিতে রাজ্য বাজেটে একগুচ্ছ মেগা প্রকল্পের ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সোমবার নতুন রাজ্য সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে কলকাতার গণ্ডি ছাড়িয়ে জেলা স্তরে মেট্রো রেলের সম্প্রসারণ এবং একাধিক নতুন বিমানবন্দর ও বন্দর নির্মাণের রূপরেখা পেশ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সুদূরপ্রসারী দূরদর্শিতা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী তৈরি এই বাজেট মূলত রাজ্যের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দেওয়ার লক্ষ্যে নিবেদিত।

জেলায় মেট্রো ও আকাশপথে নতুন দিগন্ত

মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ মেনে ২৫ থেকে ৩০ লক্ষাধিক জনসংখ্যা বিশিষ্ট জেলা শহরগুলোতে দ্রুতগতির যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য। বাজেটের ঘোষণা অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ি এবং পশ্চিম বর্ধমানের শিল্পাঞ্চল আসানসোল ও দুর্গাপুরে এবার চালু হতে চলেছে মেট্রো রেল পরিষেবা।

পাশাপাশি, আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও মসৃণ করতে মালদহ ও পুরুলিয়ায় নতুন বিমানবন্দর গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরের ওপর চাপ কমাতে মালদহের বিমানবন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। অন্যদিকে, দুর্গাপুরের অন্ডাল বিমানবন্দরের পাশাপাশি জঙ্গলমহল অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গতি আনবে পুরুলিয়ার প্রস্তাবিত বিমানবন্দরটি। একই সাথে কলকাতার দমদম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চাপ সামলাতে শহরের অদূরেই আরও একটি নতুন বিমানবন্দর তৈরির মেগা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যিক ও কৌশলগত উন্নয়ন

যোগাযোগের পাশাপাশি রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্যে জোয়ার আনতে পূর্ব মেদিনীপুরের তাজপুরের কাছে দাদনপাত্রবাড়ে একটি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। তাছাড়া, দেশের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কলাইকুণ্ডা ও হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটি সম্প্রসারণের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জমি বরাদ্দ করার সিদ্ধান্তও জানানো হয়েছে এই বাজেটে।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

জেলা স্তরের এই বিপুল রূপান্তরের মূল কারণ হলো ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ সামলানো এবং কলকাতার ওপর থেকে একক অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে প্রান্তিক জেলাগুলোতে সমান সুযোগ তৈরি করা। মেট্রো এবং বিমানবন্দর চালু হলে এই অঞ্চলের শিল্প, বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পে বিপুল জোয়ার আসবে। একই সাথে গভীর সমুদ্র বন্দরটি তৈরি হলে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য মানচিত্রে রাজ্যের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে এবং আগামী দিনে কয়েক লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *