কাতারে গ্যাস কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১৩ জনের মধ্যে একাধিক ভারতীয় – এবেলা

কাতারে গ্যাস কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১৩ জনের মধ্যে একাধিক ভারতীয় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দোহা: কাতারের বৃহত্তম গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৬৬ জন। মৃত ও আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দোহায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।

কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?

সোমবার সন্ধ্যায় রাস লাফান এলএনজি (LNG) কমপ্লেক্সের বারজান গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে এই বিস্ফোরণটি ঘটে। কাতার প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে একটি ‘প্রযুক্তিগত দুর্ঘটনা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাজধানী দোহার বিভিন্ন এলাকাও কেঁপে ওঠে। বহু ঘরবাড়ি ও অফিসের জানালার কাচ ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়।

উদ্বিগ্ন ভারতীয় দূতাবাস

কাতার প্রশাসন নিহত ও আহতদের জাতীয়তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও, ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে যে হতাহতদের মধ্যে একাধিক ভারতীয় রয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন নিখোঁজ। দোহায় ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। প্রশাসনের কাছ থেকে পরিস্থিতি ও আহতদের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।”

কেন এই বিস্ফোরণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর কোনও এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র পুনরায় চালু করা অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। সমস্ত ইউনিট একসঙ্গে চালু করতে গেলে বড়সড় কারিগরি ত্রুটি দেখা দিতে পারে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই প্রকল্পের দুটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যার ফলে কাতারের এলএনজি রপ্তানি প্রায় ১৭ শতাংশ কমে যায়। কাতার এনার্জি জানিয়েছিল, এই ক্ষতি মেরামত করতে ৩ থেকে ৫ বছর সময় লাগতে পারে। সেই সংঘাত কাটার পর পরিকাঠামো ফের চালু করতে গিয়েই এই বিপর্যয় ঘটল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *