কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড নাকাশিপাড়া, বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল নারীসহ দুইজনের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
শনিবার বিকেলে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথেই প্রকৃতির রুদ্ররূপ দেখল নদিয়ার নাকাশিপাড়া। আকস্মিক ঝড়বৃষ্টির সময় পৃথক দুটি বজ্রপাতের ঘটনায় এক নারীসহ দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় সমগ্র এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস মিলিয়ে শনিবার দুপুর থেকেই নদিয়াসহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মেঘলা আকাশ ও কালবৈশাখীর দাপট শুরু হয়। বিকেলে ঝড়বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার পরপরই এই দুই মৃত্যুর খবর সামনে আসে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃতদের নাম তপন প্রামাণিক (৫০) এবং উন্নতি সরকার (৩২)। তপন বাবু গোবিপুর এলাকার বাসিন্দা এবং উন্নতি দেবীর বাড়ি দুর্গাপুর এলাকায়।
মাঠ ও বাড়িতেই নেমে এলো মরণ আঘাত
বজ্রপাতের সময় দুই মৃত ব্যক্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি স্থানে অবস্থান করছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার বিকেলে যখন আচমকা ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়, তখন তপন প্রামাণিক নিজের পাটের জমিতে চাষের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। খোলা মাঠে আকস্মিক বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর জখম হন। মাঠে থাকা অন্যান্য চাষিরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বেথুয়াডহরি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, দুর্গাপুরের বাসিন্দা উন্নতি সরকার সেই সময় নিজের বাড়িতেই গৃহস্থালির কাজ করছিলেন। আকস্মিক ঝড়ের মধ্যে বাড়ির পাশে থাকা একটি নারকেল গাছে তীব্র বজ্রপাত হয়। তার আঘাতেই ঘরের ভেতর থাকা উন্নতি দেবী মারাত্মকভাবে জখম হন। পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি তাঁকে বেথুয়াডহরি স্টেট জেনারেল হাসপাতালেই নিয়ে যান, তবে চিকিৎসকদের আর কিছু করার ছিল না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দু’জনকেই হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছিল।
প্রকৃতির রুদ্ররূপ ও বাড়তে থাকা ক্ষয়ক্ষতি
গ্রীষ্মের শেষ ও বর্ষার প্রাক্কালে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়া বজ্রগর্ভ মেঘের কারণেই এই ধরনের তীব্র বজ্রপাত ঘটছে বলে বিশেষজ্ঞদের মত। গ্রামীণ এলাকায় খোলা মাঠ বা গাছের কাছাকাছি থাকা মানুষেরা এর ফলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। একদিনে নাকাশিপাড়ায় দুটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উপযুক্ত আশ্রয় বা সচেতনতামূলক প্রচারের অভাবকেই দায়ী করছেন অনেকে। এই ঘটনার পর নাকাশিপাড়া ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে দুর্যোগকালীন সময়ে পাকা ছাদের নিচে আশ্রয় নেওয়ার এবং খোলা মাঠ বা গাছের নিচে অবস্থান না করার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
