‘কী কথা হয়েছে বলব না…’ ED-র ৯ ঘণ্টার জেরা শেষে বিস্ফোরক রথীন! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পুরসভায় বেআইনি নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ফের সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই মামলার সূত্রে শুক্রবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে হাজিরা দেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ। সেখানে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তীব্র জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। ম্যারাথন জেরা শেষে শুক্রবার রাতে অবশেষে ইডি দফতর থেকে বের হন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরোনোর সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রথীন ঘোষ। তবে ভেতরে ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত মুখ খুলতে চাননি তিনি। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বিধায়ক জানান, ভেতরের কথাবার্তার বিবরণ তিনি প্রকাশ করবেন না। তবে তদন্তকারীদের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে যা যা জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি সব প্রশ্নেরই যথাযথ উত্তর দিয়েছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করেছেন।
সুজিত বসুর গ্রেফতারির পর বাড়ছে চাপ
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কিছুদিন আগেই রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছে ইডি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, সুজিত বসুকে হেফাজতে নেওয়ার পর এই দুর্নীতির জাল কতটা গভীরে ছড়িয়ে রয়েছে, সে বিষয়ে একাধিক বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সেই সমস্ত সূত্র ও নথিপত্র খতিয়ে দেখেই এই দুর্নীতিকাণ্ডে যুক্ত অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় থাকা রথীন ঘোষকে তলব করা হয়েছিল বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের খবর, বিগত বছরগুলিতে রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। রথীন ঘোষ যখন মধ্যমগ্রাম পুরসভার দায়িত্বে ছিলেন, সেই সময়কার নিয়োগ প্রক্রতিয়াও এখন কেন্দ্রীয় সংস্থার আতশকাচের নিচে। সুজিত বসুর গ্রেফতারির পর রথীন ঘোষের এই দীর্ঘ জেরা রাজ্যের শাসক শিবিরের ওপর আইনি ও রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিল। আগামী দিনে এই বয়ান ও নতুন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে, যা রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
