খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে মোদিকে আমন্ত্রণ ঘিরে দিল্লির কূটনীতিতে চরম অস্বস্তি – এবেলা

খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে মোদিকে আমন্ত্রণ ঘিরে দিল্লির কূটনীতিতে চরম অস্বস্তি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইরানের প্রয়াত সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পাঠানো এই আমন্ত্রণপত্র ঘিরে সাউথ ব্লকের কূটনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ মাথায় রেখে এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী মোদির ইরান সফর কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসন্তোষের ঝুঁকি নিয়ে ভারত এই আমন্ত্রণে কীভাবে সাড়া দেবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর নজর রয়েছে।

দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের টান ও বৈশ্বিক কূটনীতির টানাপোড়েন

ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং তা কেবল বাণিজ্যিক নয়, বরং গভীর সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত। গত ফেব্রুয়ারিতে খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে গভীর শোকপ্রকাশ করেছিল। এমনকি ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি নয়াদিল্লির ইরানি দূতাবাসে গিয়ে সরকারের পক্ষে শোকবার্তায় স্বাক্ষরও করেন। এর আগে ২০২৪ সালে ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির আকস্মিক মৃত্যুর পরও ভারতের তরফ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছিল।

তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান-বিরোধী কড়া অবস্থান, অন্যদিকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা—সব মিলিয়ে এক চরম উভয়সংকটে পড়েছে নয়াদিল্লি। ট্রাম্পকে চটিয়ে মোদির এই সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা ভারতের শীর্ষ নেতৃত্ব এড়াতে চাইবে।

শতদিন পর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও কমে আসা নিরাপত্তা ঝুঁকি

নিরাপত্তাজনিত চরম উদ্বেগের কারণে খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর প্রায় ১০০ দিনেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর মরদেহ সমাহিত করা সম্ভব হয়নি। বড় ধরনের জমায়েত হলে সেখানে ইজরায়েল বা আমেরিকা হামলা চালাতে পারে, এমন আশঙ্কায় ছিল ইরানি কর্তৃপক্ষ। তবে সম্প্রতি আমেরিকার সঙ্গে ইরানের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় হামলার সেই আশঙ্কা এখন অনেকটাই কেটে গেছে।

আগামী ৪ জুলাই থেকে খামেনেইয়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ধর্মীয় প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে এবং ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদ শহরে তাঁকে সমাহিত করা হবে। তেহরান এই অনুষ্ঠানে ভারত ছাড়াও রাশিয়া, চিন, পাকিস্তান, ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া ও লেবাননের মতো রাষ্ট্রগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় অন্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতির সম্ভাবনা বাড়লেও, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জই এখন প্রধানমন্ত্রী মোদির ইরান সফরের মূল সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *