খেলার মাঠে এবার রাজনীতির দাপট খতম, কেন্দ্রীয় ক্রীড়া নীতিতে বেকায়দায় তৃণমূল নেতারা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামহলে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক একাধিপত্যের অবসান ঘটতে চলেছে। রাজ্যের একাধিক ক্রীড়া সংস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া নীতির হাত ধরে শুরু হয়েছে এক বড়সড় সাফাই অভিযান। এতদিন ধরে দলীয় ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে শাসকদলের হেভিওয়েট নেতারা বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থার শীর্ষ পদ দখল করে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ। তবে জাতীয় সংস্থার নিয়ম মেনে বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন ময়দানের সেই চেনা সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যাওয়ার মুখে।
এক নেতার হাতে একাধিক পদ ও দুর্নীতির অভিযোগ
রাজ্যের ক্রীড়া ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন স্বপন ওরফে বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়। একাই আটটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া সংস্থার শীর্ষ পদে আসীন রয়েছেন তিনি। বেঙ্গল স্টেট টেবিল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি থেকে শুরু করে হ্যান্ডবল, কবাডি, বক্সিং, বডি বিল্ডিং এবং মোহনবাগান ক্লাবের ফুটবল সচিবের মতো পদও রয়েছে তাঁর দখলে। এর পাশাপাশি তাঁর দাদা অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ও আইএফএ সভাপতিসহ তিনটি সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। বিভিন্ন ক্রীড়া কর্তাদের অভিযোগ, এই ক্ষমতার অপব্যবহার করে অতীতে সংস্থা ভাঙা এবং বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম চালানো হয়েছে। এমনকি সংস্থার তহবিল থেকে ব্যক্তিগত খরচ তোলার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।
আসন্ন নির্বাচন ও ক্রীড়াঙ্গন সংস্কারের প্রভাব
শুধু বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারই নয়, ফিরহাদ হাকিম, সুজিত বসু, দেবাশিস কুমার এবং স্বরূপ বিশ্বাসের মতো তৃণমূলের একাধিক প্রথম সারির নেতা রাজ্যের ভলিবল, হকি, সুইমিং ও আইএফএ-র মতো বড় বড় সংস্থার পদ আলো করে বসে আছেন। নতুন নিয়মের জেরে এই রাজনৈতিক সিন্ডিকেট ভেঙে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া নীতি অনুযায়ী আগামী ৩১ ডিসেম্বরের ফর্মুলা মেনে বিওএ-র নির্বাচন সম্পন্ন হলে ক্রীড়া সংস্থাগুলোতে স্বচ্ছতা ফিরবে বলে মনে করছেন বর্তমান কর্তারা। এই সংস্কারের ফলে খেলার মাঠ থেকে পরিবারবাদ ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দূর হবে এবং প্রকৃত ক্রীড়াবিদ ও যোগ্য সংগঠকদের হাতে ক্রীড়া প্রশাসনের দায়িত্বভার আসার পথ সুগম হবে।
