গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর সর্বত্র গেরুয়া, বঙ্গে মোদী ম্যাজিকের জয়গান গেয়ে মমতা-রাহুলকে আক্রমণ শাহের

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়লাভের পর পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির শাসনকাল শুরু হতে চলেছে। কলকাতায় এক গুরুত্বপূর্ণ দলীয় বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই জয়কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শাসন মডেলের প্রতি জনগণের গভীর আস্থা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত আজ সর্বত্রই বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠিত। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পবিত্র ভূমিতে এই পরিবর্তন এক নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা করল বলে তিনি মনে করেন।
মমতা-রাহুলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ
নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অমিত শাহ রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। শাহ উল্লেখ করেন, গত নির্বাচনে নন্দীগ্রামে পরাজয়ের পর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের গড় ভবানীপুরেও শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,০০০-এর বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। অন্যদিকে, বারবার হারের পর ইভিএম বা নির্বাচন কমিশনের ওপর দোষারোপ করার জন্য তিনি রাহুল গান্ধীর তীব্র সমালোচনা করেন। শাহের মতে, বিরোধী পক্ষ মানুষের রায় গ্রহণ করার পরিবর্তে অপ্রাসঙ্গিক অভিযোগ তুলে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করছে।
সোনার বাংলা গড়ার অঙ্গীকার
রাজ্যে বিজেপির এই উত্থানকে নজিরবিহীন আখ্যা দিয়ে শাহ বলেন, মাত্র ৩টি আসন থেকে শুরু করে ২০৭টি আসনে পৌঁছানো দলের কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের ফল। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের শাসনামলে বাংলার পরিস্থিতি কমিউনিস্ট আমলের চেয়েও ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল এবং সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এই প্রতিকূল পরিবেশ ও সহিংসতার মধ্যেও মানুষ মোদী ম্যাজিকে ভরসা রেখেছেন। নবনির্বাচিত বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করে শাহ বলেন, বিজেপির প্রধান লক্ষ্য এখন হবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে একটি সমৃদ্ধ ও শান্তিময় ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলা।
এক ঝলকে
- ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসন পেয়ে পশ্চিমবঙ্গে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে বিজেপি।
- ভবানীপুর আসনে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
- আগামীকাল রবীন্দ্রজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী।
- রাজ্যের ২৩টি প্রশাসনিক জেলার মধ্যে ৯টিতে তৃণমূল কংগ্রেস সম্পূর্ণভাবে আসনশূন্য হয়েছে।
