গাড়ি ছেড়ে সাইকেলে অধিকর্তা, পায়ে হেঁটে দপ্তরে ডিএম! যোগীরাজ্যে আমলাদের নয়া রূপ – এবেলা

গাড়ি ছেড়ে সাইকেলে অধিকর্তা, পায়ে হেঁটে দপ্তরে ডিএম! যোগীরাজ্যে আমলাদের নয়া রূপ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জ্বালানি সাশ্রয় ও দূষণমুক্ত দেশ গড়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে এক অভিনব নজির গড়লেন উত্তরপ্রদেশের শীর্ষ আমলারা। বৃহস্পতিবার লখনউ ও বারাবাঁকির রাজপথে দেখা গেল এক ভিন্ন চিত্র। সরকারি বিলাসবহুল গাড়ির বদলে কেউ সাইকেলে চেপে, আবার কেউ পায়ে হেঁটেই পৌঁছালেন নিজ নিজ দপ্তরে। প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

সাইকেল সংস্কৃতি চালুর পথে এসজিপিজিআই

লখনউয়ের সঞ্জয় গান্ধী স্নাতকোত্তর আয়ুর্বেদ বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের (এসজিপিজিআই) ডিরেক্টর রাধা কৃষ্ণ ধীমান এদিন নিজের আবাস থেকে সাইকেল চালিয়ে দপ্তরে পৌঁছান। শুধু ব্যক্তিগত উদ্যোগেই সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি জানিয়েছেন, পুরো প্রতিষ্ঠান চত্বরে সাইকেল সংস্কৃতি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর আওতায় ক্যাম্পাসের ভেতরে যত্রতত্র যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে হাঁটা এবং সাইকেল চালানোকে উৎসাহিত করা হবে। নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর সাইকেল স্ট্যান্ড তৈরির পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, যানবাহনের ওপর নির্ভরতা কমলে কেবল জ্বালানি সাশ্রয় হবে না, বরং সুস্থতার পথেও কয়েক ধাপ এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

বারাবাঁকিতে জেলাশাসকের হেঁটে দপ্তর যাত্রা

অন্যদিকে, বারাবাঁকিতে জেলাশাসক ঈশান প্রতাপ সিং এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি অতিরিক্ত জেলাশাসকের সঙ্গে পায়ে হেঁটে তাঁর বাসভবন থেকে কালেক্টরেট অফিসে পৌঁছান। পথে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলার পাশাপাশি তিনি সবাইকে পরিবেশ রক্ষায় ও জ্বালানি সাশ্রয়ে হাঁটার অভ্যাস করার আবেদন জানান। এই পদক্ষেপকে প্রশাসনের ‘মিতব্যয়িতা অভিযান’-এর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি মহলে ব্যয় ও দূষণ সংকোচনের প্রভাব

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সরকারি কনভয়ে অন্তত ৫০ শতাংশ গাড়ি কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার রেশ ধরেই আমলারা এই সক্রিয়তা দেখাচ্ছেন। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারি তহবিলের অপচয় কমবে, অন্যদিকে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রশাসনের এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে ভার্চুয়াল মিটিং এবং জনপরিবহনের ব্যবহার বৃদ্ধির পথকেও প্রশস্ত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ব্যক্তিগত শারীরিক সুস্থতা—এই দুই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনে এই পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *