চিনা জলসীমায় গুপ্তচর কচ্ছপ ও মাছ! বেজিংয়ের নতুন মাথাব্যথা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দক্ষিণ চিন সাগর থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত দাপট দেখানো চিন এবার এক অভিনব গুপ্তচরবৃত্তির শিকার। বেজিংয়ের দাবি, তাদের নিজস্ব জলসীমায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সামুদ্রিক প্রাণী, বিশেষ করে মাছ ও কচ্ছপকে কাজে লাগিয়ে গোপন তথ্য সংগ্রহ করছে কোনও অজ্ঞাত বিদেশি শক্তি। চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সমুদ্রে চলা এই নজরদারিকে ‘অদৃশ্য গোপন যুদ্ধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং এর জেরে রীতিমতো শঙ্কিত চিনা প্রশাসন।
কীভাবে চলছে এই গোপন নজরদারি
বিদেশি গুপ্তচর সংস্থাগুলি সামুদ্রিক প্রাণীদের শরীরে ‘বুওয়া’ (BUOY) এবং ‘ওয়েভ গ্লাইডার’-এর মতো অত্যাধুনিক সেন্সর যুক্ত করে দিয়েছে। এই স্বয়ংক্রিয় ও রিমোট-চালিত যন্ত্রগুলো সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, সমুদ্রস্রোত থেকে শুরু করে চিনা সাবমেরিনের শব্দ এবং নৌবাহিনীর গতিবিধি রিয়েল-টাইমে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করছে। মূলত সমুদ্রের তলদেশের নিখুঁত মানচিত্র তৈরি, তেল ও গ্যাসের মজুত সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং চিনা নজরদারি এড়িয়ে চলার গোপন পথ খুঁজতেই এই অভিনব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কাজ শেষে প্রমাণ লোপাট করতে ডিভাইসগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে এতে।
প্রতিরোধে মরিয়া চিন ও এর প্রভাব
এই ‘অদৃশ্য’ হানাদারির জেরে চিনা সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নৌবাহিনীর গোপন গতিবিধি ফাঁস হয়ে যাওয়ার এই সম্ভাব্য প্রভাব ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে প্রশাসন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং এই গুপ্তচরবৃত্তি রুখতে ইতিমধ্যে চিনা জেলেদের সাহায্য চেয়েছে বেজিং। জলসীমায় এমন কোনও সন্দেহজনক যন্ত্র খুঁজে পেলে জেলেদের ৫০ হাজার থেকে ৫ লক্ষ ইউয়ান পর্যন্ত বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সামুদ্রিক প্রাণীকে সামরিক কাজে ব্যবহারের ঘটনা বিশ্বে নতুন নয়, এর আগে রাশিয়াও নৌঘাঁটি রক্ষায় এবং গুপ্তচরবৃত্তিতে ডলফিন ও তিমি ব্যবহার করেছে বলে একাধিক রিপোর্ট রয়েছে।
