চীন সফরে ট্রাম্পের বাজিমাত! ইরানের ওপর সামরিক নিষেধাজ্ঞা দিতে রাজি জিনপিং? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চীন সফর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। ট্রাম্পের মতে, চীনা প্রেসিডেন্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তারা ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে না। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার আবহে শি জিনপিংয়ের এই অবস্থানকে ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরান ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান
বৈঠক শেষে ট্রাম্প জানান, চীন ইরান থেকে প্রচুর পরিমাণে অপরিশোধিত তেল কেনে এবং তারা সেই বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। একই সাথে চীন চায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী যেন উন্মুক্ত ও নিরাপদ থাকে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, শি জিনপিং আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি টেকসই সমঝোতা দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং প্রয়োজনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে চীন এখনো এই সামরিক সরঞ্জাম না দেওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করেনি।
বাণিজ্যিক চমক ও কূটনৈতিক ইঙ্গিত
সামরিক বিষয়ের পাশাপাশি ট্রাম্প একটি বড় বাণিজ্যিক চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, চীনা প্রেসিডেন্ট বোয়িং থেকে ২০০টি বিমান কেনার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, এই সফরের শুরু থেকেই দুই রাষ্ট্রপ্রধানের শরীরী ভাষা এবং দীর্ঘ ১৫ সেকেন্ডের করমর্দন নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও কারণ
বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা চাইছে চীন যেন তাদের অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ইরানকে পরমাণু চুক্তিতে ফিরে আসতে বাধ্য করে। চীন যদি সত্যিই ইরানকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দেয়, তবে তেহরান আন্তর্জাতিকভাবে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়তে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের পথ প্রশস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, বিশাল বিমান কেনার প্রস্তাবটি মূলত দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য যুদ্ধ প্রশমিত করার একটি কৌশল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বেইজিংয়ের নীরবতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রেখেই আমেরিকার সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করতে চাইছে।
