জনতার রোষে অভিষেক, সোনারপুরের উত্তেজনায় এবার মুখ খুললেন লাভলি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভরাডুবির ধাক্কা সামলে দীর্ঘ ২৬ দিন পর প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেমেই নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোনারপুরে তাঁর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়, যেখানে ডিম ছোঁড়া থেকে শুরু করে ‘চোর চোর’ স্লোগান— কিছুই বাদ যায়নি। এই ঘটনার রেশ ধরে ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার এবং তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সক্রিয় তৃণমূল কর্মী এবং এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক লাভলি মৈত্রর ঘনিষ্ঠ বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
অভিযুক্তরা কি দলের, উঠছে প্রশ্ন
পুলিশের জালে ধরা পড়া নির্মাল্য সেনগুপ্ত, দেবাশিস দত্ত ও কাজল দাস নামের ব্যক্তিরা লাভলি মৈত্রর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে গুঞ্জন উঠলেও, তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক। কলকাতার বাইরে থাকা লাভলি মৈত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই নামে সোনারপুরে কেউ তৃণমূল করে বলে তাঁর জানা নেই। তবে নিজের অনুপস্থিতি নিয়ে সাফাই দিয়ে তিনি জানান, কলকাতায় থাকলে তিনি অবশ্যই ঘটনাস্থলে যেতেন। গতকালের ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের লজ্জা’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি ও রাজনৈতিক প্রভাব
ঘটনার আকস্মিকতা ও দলের কর্মীদের একাংশের জড়িত থাকার অভিযোগে তৃণমূলের অন্দরেই অস্বস্তি বাড়ছে। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ অবশ্য পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, পাথর ছোঁড়ার ঘটনাটি সবাই দেখেছে এবং অপরাধী যারই ঘনিষ্ঠ হোক না কেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কেবল দলের অভ্যন্তরীণ ফাটলকেই সামনে আনেনি, বরং নির্বাচনের পর তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি জনমানসে ও দলের নিচুতলায় তৈরি হওয়া ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে, যা আগামী দিনে শাসক দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
