“টাকা ধরবেন না, প্রতিবাদ করতে শিখুন!” ৩ আইপিএস সাসপেন্ড হতেই গর্জে উঠলেন অভয়ার মা-বাবা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আরজি কর কাণ্ডের জেরে অবশেষে বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। দায়িত্বে অবহেলা, সঠিক তদন্ত না করে ঘটনাকে বিপথে পরিচালিত করা এবং নির্যাতিতার পরিবারকে টাকার বিনিময়ে মুখ বন্ধ রাখার হুমকির অভিযোগে কলকাতা পুলিশের তৎকালীন তিন শীর্ষ কর্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সাসপেন্ড হওয়া আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল (বর্তমান এডিজি আইবি), ইন্দিরা মুখার্জি এবং অভিষেক গুপ্তা। শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই কড়া সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। সরকারের এই পদক্ষেপের পর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ খুলেছেন নির্যাতিতা অভয়ার মা-বাবা।
প্রশাসনের গাফিলতি ও পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও অভয়ার পরিবারের দাবি, এই পদক্ষেপ ঘটনার পরপরই নেওয়া উচিত ছিল। নির্যাতিতার বাবা শেখর দেবনাথ সরাসরি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সেই সময় এই ব্যবস্থা নিলে তা প্রশাসনের জন্য দৃষ্টান্তমূলক সাফল্য হতে পারত। কিন্তু তা না করে তৎকালীন সরকার বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার এবং অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছিল, যা এখন প্রমাণিত।
অন্যদিকে, অভয়ার মা ও জলহাটির বর্তমান বিধায়ক রত্না দেবনাথ পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানান, মেয়ের মৃতদেহের সামনেই তাঁর স্বামীর হাতে টাকা গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললে মেয়ে কোনওদিন বিচার পাবে না বলে পুলিশের পক্ষ থেকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, ভয় দেখিয়ে জোর করে তাঁদের কাছ থেকে একটি ভিডিও বয়ানও রেকর্ড করানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রশাসনিক প্রভাব
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আরজি কর কাণ্ডের পর কলকাতা পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট হয় যে, ঘটনার পর সঠিক সময়ে এফআইআর করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে বিষয়টিকে অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এছাড়া, সরকারের লিখিত অনুমতি ছাড়াই সংবাদমাধ্যমের সামনে এক পুলিশ কর্তার অনভিপ্রেত আচরণ এবং নির্যাতিতার পরিবারকে ঘুষের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ। মামলার মূল তদন্ত সিবিআই-এর হাতে থাকলেও, বিভাগীয় স্তরে পুলিশের এই গাফিলতি রুখতেই এই সিদ্ধান্ত।
এই সাসপেনশনের ফলে রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে একটি কড়া বার্তা যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা বা প্রভাবশালীদের আড়াল করার চেষ্টার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ আগামী দিনে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। ঘটনার দীর্ঘ সময় পর হলেও এই আইনি ও প্রশাসনিক তৎপরতা অভয়ার পরিবারকে ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। সর্বোপরি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নির্যাতিতার মা সমাজের সমস্ত বাবা-মায়ের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছেন, যেন কোনও পরিস্থিতিতেই তাঁরা প্রতিবাদ করতে ভয় না পান।
