তারাতলায় মৃত্যুমিছিল: ‘তৃণমূলের পাপের ফল’, কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১। এই ভয়াবহ বিপর্যয়কে ‘তৃণমূল জমানার পাপের ফল’ বলে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, এই ঘটনায় অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। পাশাপাশি, চার সপ্তাহের জন্য কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সমস্ত নির্মীয়মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর তোপ ও কড়া পদক্ষেপ:
- ‘মৃতু্যপুরী’ কলকাতা: বিধানসভায় নথি পেশ করে শুভেন্দু দাবি করেন, স্ট্রাকচারে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সইয়ে বেআইনি প্ল্যান পাস করানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “সিটি অফ জয়কে আপনারা মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছেন।”
- অডিট কমিটি: আগামী চার সপ্তাহ কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, রাজারহাট-নিউ টাউন, মহেশতলাসহ সংলগ্ন এলাকার সমস্ত নির্মীয়মাণ কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রতিটি অনুমোদিত প্ল্যান অডিট করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
- ক্ষতিপূরণ: মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রাক্তন মেয়রের ওএসডি গ্রেপ্তার:
কলকাতা পুরসভার বিতর্কিত কাজকর্ম নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে শুভেন্দু বলেন, “পুরসভার ‘কালী’কে তুললে সব বেরিয়ে যাবে।” এর কিছুক্ষণ পরেই পুলিশ ফিরহাদ হাকিমের তৎকালীন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করে। যদিও ফিরহাদ হাকিমের দাবি, “আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়িনি। সই করাটা একটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। ঘটনার বিষয়ে আমার কোনো আইডিয়াই নেই।”
উদ্ধারকাজ ও যন্ত্রপাতির অভাব:
মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত সরকারের আমলে বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতি বা পেশাদার টিম তৈরি রাখা হয়নি। এমনকী ভারী লোহার বিম কাটার মতো মেশিন পর্যন্ত নেই। সেনাবাহিনী আসরে নামায় বহু মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, এই ঘটনার পর বিধানসভায় তৃণমূলের অন্দরেও চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিদ্রোহী বিধায়ক কুণাল ঘোষ সাংবাদিক বৈঠক করে অবিলম্বে প্রাক্তন মেয়রের গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন। সব মিলিয়ে, তারাতলা বিপর্যয় ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।
