তিলজলার বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি, বেআইনি কারখানার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

কলকাতার তিলজলায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই ব্যক্তি। সোমবার দুপুরে তিলজলা থানা এলাকার টালিখোলা মসজিদের নিকটবর্তী একটি পাঁচতলা বাড়ির কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ঢেকে যায় গোটা এলাকা। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রাণ বাঁচাতে পাঁচজন ওই বাড়ির বাথরুমে লুকিয়েছিলেন, কিন্তু ধোঁয়ার কারণে তাঁরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের উদ্ধার করে চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশি তৎপরতা ও গ্রেফতারি
অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় রাতেই তিলজলা থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কারখানার তিন কর্মীকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে কারখানার মালিক এখনও পলাতক। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কারখানাটি যে বহুতলে চলছিল সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার যথেষ্ট অভাব ছিল। দমকলের চারটি ইঞ্জিন দীর্ঘ চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক আকার ধারণ করে।
প্রশাসনের কড়া অবস্থান ও তদন্ত
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাজ্যে এই ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড আর বরদাস্ত করা হবে না। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তারা দ্রুত রিপোর্ট জমা দেবে। এই ধরনের বেআইনি কাজ করতে দেওয়া হবে না, এটাই শেষ ঘটনা ধরে নিন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনের শাসন কঠোরভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সন্তোষপুর এলাকার একটি ঘিঞ্জি বস্তিতে ভয়াবহ আগুনের স্মৃতি এখনও টাটকা। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের তিলজলায় এই প্রাণহানি শহরের অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে ঘিঞ্জি এলাকায় জনবসতিপূর্ণ বহুতলের ভেতরে বেআইনিভাবে কারখানা চালানোই এই ধরনের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসনের কড়া বার্তার পর এবার শহরজুড়ে বেআইনি কারখানার বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
