“তৃণমূল ২৩৪ আসনে জিতে গিয়েছে, বিজেপি আসলে মিথ্যার সোনপাপড়ি!” গণনার প্রাক্কালে বিস্ফোরক অখিলেশ যাদব

“তৃণমূল ২৩৪ আসনে জিতে গিয়েছে, বিজেপি আসলে মিথ্যার সোনপাপড়ি!” গণনার প্রাক্কালে বিস্ফোরক অখিলেশ যাদব

লখনউ: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মহাগণনা শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। তার ঠিক আগেই বঙ্গ রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তাঁর দাবি, বিজেপি যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন, মানুষের রায়ে তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ২৩৪টি আসন জিতে গিয়েছে। একইসঙ্গে বিজেপিকে ‘মিথ্যার সোনপাপড়ি’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন সপা সুপ্রিমো।

বিজেপিকে কড়া আক্রমণ

রবিবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে অখিলেশ যাদব লেখেন, “বিজেপি আসলে মিথ্যার সোনপাপড়ি। এরা একটা মিথ্যার ওপর আর একটা মিথ্যার স্তর চাপিয়েই চলেছে।” তাঁর মতে, আসাম বা অন্যান্য রাজ্যের মতো বাংলাতেও বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করতে চেয়েছিল, কিন্তু বাংলার মানুষ তা রুখে দিয়েছে। অখিলেশের দাবি, ফলতা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, নিশ্চিত পরাজয় জেনে বিজেপি এখন মুখ লুকানোর পথ খুঁজছে।

ফলতা ইস্যু ও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে যেভাবে নির্বাচন কমিশন পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে, তা নিয়ে সরব হয়েছেন অখিলেশ। তাঁর প্রশ্ন, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে যদি কমিশন বুথ দখলের মতো অভিযোগ তোলে, তবে সেখানে মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা কী ছিল? অখিলেশ লিখেছেন, “প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল। সেখানে আধাসেনার কড়া প্রহরা ছিল। যদি কোনও অনিয়ম হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষককে অবিলম্বে বরখাস্ত করা উচিত।”

পুনর্নির্বাচনের খরচ ও স্বচ্ছতা

সপা প্রধানের মতে, যদি আধিকারিকদের গাফিলতির জন্য পুনর্নির্বাচন করতে হয়, তবে সেই বিপুল খরচ তাঁদের বেতন থেকেই কাটা উচিত। সাধারণ মানুষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যদি সত্যিই কোনও কারচুপি হত, তবে এখনকার যুগে শত শত ভিডিও ক্লিপ সামনে আসত। কিন্তু সেরকম কিছুই দেখা যায়নি। এটি আসলে বিজেপির সাজানো চিত্রনাট্য ছাড়া আর কিছুই নয়।”

তৃণমূল এজেন্টদের বিশেষ বার্তা

ভোটগণনার সময় তৃণমূলের প্রার্থী ও কাউন্টিং এজেন্টদের চূড়ান্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অখিলেশ যাদব। তাঁর বার্তা, “যতক্ষণ না জয়ের সার্টিফিকেট হাতে পাচ্ছেন, ততক্ষণ কাউন্টিং টেবিল ছাড়বেন না। তৃণমূলের সজাগ কর্মীরাই বিজেপির সব অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেবেন।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাই পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে এই লড়াই লড়ছেন এবং শেষ হাসি তিনিই হাসবেন বলে আশাপ্রকাশ করেছেন সমাজবাদী পার্টির এই নেতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *