তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগে কামারপুকুরে তৃণমূল নেতাকে কোমরে দড়ি বেঁধে পুলিশের আদালতে পেশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কামারপুকুরে তোলাবাজি, দুর্নীতি ও মারধরের অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি কৌশিক মণ্ডল ওরফে মান্তু। দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পর ঝাড়খণ্ডের রাঁচি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে গোঘাট থানার পুলিশ। শনিবার সকালে ধৃতকে কোমরে দড়ি বেঁধে আরামবাগ আদালতে পেশ করা হয়। স্থানীয় এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল, লুটপাট ও তোলাবাজির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এই নেতার বিরুদ্ধে।
জনপ্রতিনিধির ঘনিষ্ঠ মহলে অস্বস্তি
ধৃত কৌশিক মণ্ডল গোঘাট-২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষের স্বামী এবং কামারপুকুর পঞ্চায়েতের প্রধানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই তোলাবাজির অভিযোগে কামারপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রাজদীপ দে গ্রেপ্তার হন, যার পর থেকেই কৌশিক আত্মগোপন করেছিলেন। ধৃতকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার আগে গোঘাট থানায় তাঁর স্ত্রী তথা পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তনুশ্রী মণ্ডল দেখা করতে আসেন। দলীয় নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ এই নেতাদের একের পর এক গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
রাজ্যে অসামাজিক কার্যকলাপ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমানে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। এই নীতির অংশ হিসেবেই অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর আগে হাওড়া ও বীজপুরসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তোলাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগে ধৃতদের এভাবে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকা ঘোরানোর ঘটনা দেখা গেছে। পুলিশের এই কঠোর অবস্থান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে এবং জনসাধারণের মধ্যে আস্থা ফেরাতে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।
