দল নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশের পরেই বাড়ির সামনে গেরুয়া পতাকা, তাহলে কি অনুব্রতও দল ছাড়ছেন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও জনপ্রতিনিধিদের একাংশের বিদ্রোহের মাঝেই নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে বীরভূমে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের নীতি নিয়ে খোদ বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ক্ষোভ প্রকাশের পরপরই বোলপুরে তাঁর নিচুপট্টির বাড়ির সামনে দেখা গেল গেরুয়া পতাকা। যে দলীয় পতাকার স্ট্যান্ডে এতদিন জোড়াফুলের পতাকা শোভা পেত, সেখানে রাতারাতি গেরুয়া পতাকা চলে আসায় রাজনৈতিক মহলে ‘বীরভূমের বাঘ’ খ্যাত এই নেতার দলবদলের গুঞ্জন তীব্র রূপ নিয়েছে।
রাতারাতি পতাকার পালাবদল ও রাজনৈতিক জল্পনা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে বোলপুরের নিচুপট্টি এলাকায় অনুব্রত মণ্ডলের বাড়ির সামনের দলীয় পতাকার স্ট্যান্ড এবং বাড়ির দেওয়ালে একাধিক গেরুয়া পতাকা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। শনিবার সকালে বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীদের নজরে আসতেই তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। মাত্র দু’দিন আগেই দলীয় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অনুব্রত মণ্ডল বিদ্রোহের সুর চড়িয়েছিলেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই তাঁর খাসতালুকে এই ধরনের ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও সকাল গড়াতেই বিতর্কিত ওই পতাকাগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
ভিতরের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান সাংগঠনিক টানাপোড়েন এবং বিধায়ক-সাংসদদের একাংশের বিদ্রোহী মনোভাবের সুযোগ নিয়ে অনুব্রতের রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি চেষ্টা এটি হতে পারে। এই ঘটনা যদি সত্যি কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হয়, তবে বীরভূমের মাটিতে তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্য বড়সড় ধাক্কা খাবে। অন্যদিকে, এটিকে যদি বিরোধী শিবিরের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ধরা হয়, তবে তা অনুব্রতের অনুগামীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে স্বয়ং অনুব্রত মণ্ডল অবশ্য ধোঁয়াশা কাটানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এখনও পর্যন্ত তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেস তাঁর নাম দল থেকে বাদ দেয়নি এবং তিনিও অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেননি। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক মহলে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই কোনো মহল থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গভীর রাতে এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
